নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন আবু মোহাম্মদ মাসুম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে নেতৃত্বে আসা এবং নানা প্রতিক‚লতার মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতিকূল পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা সামনে এনে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন মাসুম।
১৯৮৫ সালের জুনে রূপগঞ্জের দক্ষিণনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবু মোহাম্মদ মাসুম। স্থানীয় রূপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। পরে মুড়াপাড়া পাইলট হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। মাসুমের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। ২০০৪ সালে তিনি রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় তিনি। ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার পর দলীয় কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রামসহ নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক প্রতিক‚ল অভিজ্ঞতার কথাও। মাসুমের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁদের বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই পরিস্থিতিতে তাঁর বাবা পরিবারের তিন ভাইবোনকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব তাঁদের পারিবারিক জীবনে পড়েছিল বলে জানান তিনি।
মাসুমের দাবি, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা করা হয়েছিল। এসব মামলায় তাঁকে মোট নয়বার কারাবরণ করতে হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে হামলা, নির্যাতন, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর কথা তুলে ধরে মাসুম জানান, একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। ২০১৩ সালে তাঁকে গুম করে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মকাÐের কারণে পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্ন সময়ে হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনে এগিয়ে চলেছেন বলে মনে করেন আবু মোহাম্মদ মাসুম। তবে এবার তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় পর্যায়ে চেয়ারম্যান পদে তাঁর নাম আলোচনায় আসায় নির্বাচনী হিসাব-নিকাশেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।



































আপনার মতামত লিখুন :