৬ মাস আগেও ঢাক ঢোল পিটিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সেসময় সাখাওয়াতের পাশে স্থানীয় এমপিসহ মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মিলনমেলা দেখা গিয়েছিল। তবে ৬ মাসের ব্যবধানেই যেন বদলে গেছে সেই চিত্র। আদালতপাড়ায় নিজ অনুগামীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার পরে এবার হকারদের কাছেও অপদস্থ হতে হয়েছে সাখাওয়াত হোসেনকে। আদালতপাড়ার ঘটনার পরে হকার ইস্যুতেও তার উপর হামলার চেষ্টার কোন জোরালো প্রতিবাদ হতে দেখা যায়নি। যে কারণে অনেকেই বলছেন একা হয়ে পড়ছেন নাসিকের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে বসা হকাররা নগরবাসীর কাছে দীর্ঘ বছরের অভিশাপ। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে হকারদের কাছে যেন অসহায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। বিগত সরকারের আমলে নাসিকের মেয়রসহ উচ্ছেদকারী টিমের উপর প্রাণঘাতি হামলা চালিয়েছিল হকাররা। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়েও ছাত্র জনতার উপরে হামলা চালিয়েছিল হকাররা। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরেও বদলায়নি হকাররা। বরং পট পরিবর্তনের পরেও এখনো বেপরোয়া হকাররা। পূর্বে হকাররা শ্রমিকলীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করলেও এখন তারা ব্যবহার করছে শ্রমিকদলের সাইনবোর্ড। ৬ মাস আগে নাসিক কর্তৃপক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে হকার উচ্ছেদে নামলেও এখনো শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারেনি। বরং ৬ মাসের ব্যবধানে নাসিকের উচ্ছেদকারী টিমের উপর একাধিকবার হামলার পাশাপাশি নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উপরেও হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
১৩ এপ্রিল স্থানীয় এমপি আবুল কালাম ও নাসিকের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শহরের প্রধান প্রধান সড়কের ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতি সহ বিভিন্ন সংগঠনের শত শত মানুষ সমাগম ছিলো উপচে পড়া ভিড়। তবে গত কয়েকদিনের ব্যবধানেই আবারও ফুটপাত দখলে নেয় হকাররা। গত ৪ মে নাসিকের হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় কর্মচারীদের ওপর হামলা করে ফুটপাতের হকাররা। এ সময় দুই কর্মচারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন বলে অভিযোগ করেন নাসিকের উচ্ছেদ কর্মীরা। ৫ মে হকার উচ্ছেদ অভিযানে নাসিক কর্মীদের ওপর হামলায় ১০ জন হকারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। নাসিকের আইন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর ৮ জুন আবারো শহরে নাসিকের উচ্ছেদকারী টিমের সঙ্গে হকারদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
২৪ আগষ্ট সোমবার বিকালে বিবি রোডে হকার উচ্ছেদ করা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে ফের ফুটপাত দখল করে নেয় হকাররা। এ অভিযোগে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নিদের্শে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাকির সুপার মার্কেটের সামনে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় হকাররা সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ টিমের সাথে ধস্তাধস্তি করে জানান উচ্ছেদ টিমের প্রধান সম্রাট হাসান সুজন। পরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ টিমকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দেন।
সর্বশেষ ২৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উপর হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটে। রাতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ও শায়েস্তা খান সড়কে হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় এই ঘটনা ঘটে। এসময় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে থাকা উচ্ছেদ কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এর আগে ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিএনপিপন্থী দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ভবনের দ্বিতীয় তলায় মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির আহত হয়েছে। একই সাথে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে হেনস্তা করা হয়েছে।
এদিকে ২০ দিনের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উপর হামলার ঘটনা ঘটলেও মহানগর বিএনপি তথা সাখাওয়াত অনুগামীদের কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি। বরং বিএনপি নেতাকর্মীদের নিরবতায় সাখাওয়াতের ভাবমূর্তি আরো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন সাখাওয়াত যেন একা হয়ে পড়ছেন। কারণ ২০১৮ সালে যখন হকাররা সাবেক মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টায় হামলা চালিয়েছিল তখন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। অথচ হকার ইস্যুতে ৬ মাসের ব্যবধানে সাখাওয়াতের চিত্র যেন বিপরীত অবস্থায় দাড়িয়েছে।




































আপনার মতামত লিখুন :