নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা শাপলা চত্তর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে দাবিকৃত পঞ্চাশ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর জমিতে নির্মাণাধীন বসতঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের বাহিনী। নির্মাণাধীন ভবনে তান্ডব চালানোর সময় সেখানে নিয়োজিত শ্রমিকদেরও মারধর করে ইকবাল বাহিনী। এ ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর ইকবালসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০-৭০ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী (গাড়িচালক) মোঃ শাহাদাত হোসেন সানু।
লিখিত অভিযোগে মোঃ শাহাদাত হোসেন সানু উল্লেখ করেন, তিনি পাইনাদী নতুন মহল্লা শাপলা চত্তর এলাকায় জনৈক গুলজার হোসেনের কাছ থেকে ৭.৮০ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ-দখলে আছেন। বর্তমানে উক্ত জমিতে আমার নির্মাণ কাজ চলমান আছে। কাজ চলমান অবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, পলাশ, মোক্তার, ফারুক, সাইফুল গত ৭ অক্টোবর সকালে তার জমিতে নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে। এসময় বিবাদীরা আমার কাছে ৫০,০০,০০০/-(পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত দাবিকৃত চাঁদা প্রদান করিতে হুমকি-ধমকি প্রদান করে চলে যায়। এর চারদিন পর পলাশ, মোক্তার, ফারুক ও সাইফুল পুণরায় তার জমিতে এসে তাকেসহ তার জমিতে নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেতে থাকে এবং হুমকি-ধমকি প্রদান করে বিবাদীরা চলে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, পলাশ, মোক্তার, ফারুক, সাইফুল, রাসেল, সবুজ, মোঃ নাদিম, সুফিয়ানসহ অজ্ঞাত আরো ৬০-৭০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার নির্মাণাধীন ভবনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়। এসময় বিবাদীরা ভবনের চারদিকের সীমানা দেওয়াল সহ চারটি রুম (কক্ষ) লোহার রড, শাবল, হেমার, কাঠের ডাসা, হকস্টিক, স্টাম্প দিয়া আঘাতে ভাঙচুর করে। তাদের এরুপ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বাদির প্রায় ৯-১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হইয়াছে। বিবাদীরা নির্মাণাধীন ভবনে তান্ডব চালানোর সময় সেখানে নিয়োজিত শ্রমিকদেরও মারধর করে। এসময় তাদের আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকলে বিবাদীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বিবাদীরা চলে যাওয়ার সময় আশেপাশের লোকজন ২ ও ৫নং বিবাদীকে সহ পাঁচজনকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে আটককৃতদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা হালিম জুয়েলের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে এরপর হালিম জুয়েল কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।
লিখিত অভিযোগ ভুক্তভোগী মোঃ শাহাদাত হোসেন সানু উল্লেখ করেন, উল্লেখিত বিবাদীরা সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির লোক। তাহারা বিভিন্ন সাধারণ মানুষের জমি দখল সহ এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছ চাঁদাবাজি করে থাকে। বিবাদীদের এহেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে তিনি ও তার পরিবার আতঙ্কিত ও ভীত। উক্ত বিষয়টি তদন্তপূর্বক উল্লেখিত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।
মোঃ শাহাদাত হোসেন সানু আরো জানান, আমি একজন গাড়ী চালক সড়ক ও জনপথ বিভাগে হিসাবে নারায়ণগঞ্জ ডিভিশনে ছিলাম। বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত। আমার এই অসহায়ত্বের সুযোগ বিবাদীগণ আমাকে প্রতিনিয়ত মানুষিক ভাবে নির্যাতন করছে আমি এবং আমার পরিবার দিন দিন অসুস্থ্য হইয়া পড়ছি। তিনি আরো বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজাস্থিত এস.এ-২৮৪, আর.এস-৫৪০, দাগে ৭.৮০ শতাংশ ভূমিতে বিভিন্ন দলিল মূলে মালিক ও দখলকার থেকে ২০০৪ সালের ২৪ জুন থেকে ৪৪৪৭/০৩-০৪ নামজারী মোকদ্দমা মুলে নিজ নামে নামজারী করিয়া হাল নাগাদ খাজনা আদায়ে ভোগ দখল করে আসছেন। তবে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তার জমি থেকে বে-আইনীভাবে তাকে বে-দখল করিতে চেষ্টা করলে তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন ৬৯১/২০২৫ নং মোকদ্দমা দায়ের করেন। এ বিষয়ে তিনি এর আগেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। তখন পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্ত করে সমাধানের জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্ব দেন। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুই পক্ষকে ডেকে কাগজপত্র দেখেন। এছাড়াও এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জের এসিল্যান্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় বাদী ও বিবাদী দুপক্ষই দখল দাবী করে বাদীর কাগজপত্রে দেখা যায় বন্টন নামা দলিল নং ৩৪৭৫, তাই- ১৪/১১/৯৩ ইং এ মোস্তফা, রেজিয়া থেকে গোলজার ০.০১ একর দলিল নং ৪৩৮০ মূলে গোলজার শাহাদাত হোসেন কে ০.০৭ একর রাখিয়া শাহাদাত কে ০.০০৮০ একর মোট ০.০৭৮০ একর মালিকানা প্রাপ্ত। বিবাদীর মালিকানার কাগজপত্র জমা দেয় নাই। নালিশা দাগে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ ২য় আদালত, নারায়ণগঞ্জ-এ দেঃ মোঃ নং- ৩১/২০২৫ চলমান আছে।
এ বিষয়ে জানতে সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খালেকুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই বৃহস্পতিবার রাতে আমি ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে জানতে পারি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। এসময় স্থাপনার কিছু দেওয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা হালিম জুয়েল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমাদের জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধান করবেন। তখন ভুক্তভোগী থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের না করায় আমরা এ ঘটনায় কাউকে আটক করিনি। শুক্রবার রাতে অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান তিনি এখনো অভিযোগের কোন কাগজ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।

































আপনার মতামত লিখুন :