News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিস্ময়ের জগতে তিন দশকের পথচলা জাদুশিল্পী কবির প্রধানের


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম বিস্ময়ের জগতে তিন দশকের পথচলা জাদুশিল্পী কবির প্রধানের

অজানাকে জানা, অদেখাকে দেখা আর অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার বিস্ময়কর নেশা থেকেই জাদুর জগতে পথচলা শুরু। সেই শখ ও ভালোবাসাকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে জাদুশিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সন্তান কবির প্রধান। মঞ্চে একের পর এক জাদু প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের বিস্মিত করে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন দেশের জাদুশিল্পের অঙ্গনে। শুধু নিজে জাদু প্রদর্শন নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই শিল্প ছড়িয়ে দিতেও কাজ করছেন তিনি।

জাদুশিল্পী কবির প্রধান ১৯৬৮ সালের ১০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলার কাশিপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই অজানাকে জানার এবং অদেখাকে দেখার প্রতি ছিল তার বিশেষ আগ্রহ। সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহ পরিণত হয় জাদুর প্রতি গভীর ভালোবাসায়। একপর্যায়ে জাদুশিল্পকেই নিজের চর্চা ও পরিচয়ের অংশ করে নেন তিনি।

উপমহাদেশের বিশিষ্ট জাদুশিল্পী ফরিদ মাহবুবের কাছে জাদুর হাতেখড়ি হয় কবির প্রধানের। তার কাছ থেকেই জাদুর প্রাথমিক কলাকৌশল ও চর্চার নানা দিক শেখেন তিনি। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অনুশীলনের পর ১৯৯৫ সালে ঢাকার পাবলিক লাইব্রেরিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাদুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), এটিএন বাংলা உள்ளிட்ட বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে জাদু প্রদর্শনের সুযোগ পান তিনি। পাশাপাশি ঢাকার শিল্পকলা একাডেমি, রাশিয়ান কালচার সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও আয়োজনে নিজের জাদু প্রদর্শন করেন। জাদু বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলায় জাদু প্রদর্শনের পাশাপাশি করেছেন আটটি একক জাদু প্রদর্শনী। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাদুশিল্পী হিসেবে পরিচিতি ও প্রশংসা অর্জন করেন কবির প্রধান।

জাদুশিল্পের চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেও উদ্যোগী হন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের জাদুবিষয়ক প্রতিষ্ঠান 'হিমি ম্যাজিক একাডেমি'। নারায়ণগঞ্জ শহরের একমাত্র জাদুবিষয়ক একাডেমি হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের জাদুশিল্প চর্চার ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান।

জাদুর প্রতি আগ্রহী নতুনদের প্রশিক্ষণ ও এই শিল্পের চর্চা এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে একাডেমিটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তার এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে জাদুশিল্প শেখা ও চর্চার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

কবির প্রধানের পরিবেশিত উল্লেখযোগ্য জাদুর মধ্যে রয়েছে সোর্ড এরিয়াল, সেডুটো লাইক, থ্রি পিস, ভাসমান তরুণী এবং রিং কিং রিং। এসব জাদু প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ভিন্নধর্মী কৌশল ও উপস্থাপনা তুলে ধরেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন জাদুবিষয়ক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন কবির প্রধান। এর মধ্যে রয়েছে জাদুঘর পরিষদ, ম্যাজিক ফেডারেশন, জাদুশিল্পী পরিষদ ও জাদুকল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন। এসব সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জাদুশিল্পের বিকাশ ও চর্চায় ভূমিকা রাখছেন তিনি।

জাদু মূলত অনুশীলন, কৌশল, ধৈর্য ও দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগের এক অনন্য শিল্প। দীর্ঘদিনের চর্চা, মঞ্চে অভিজ্ঞতা এবং নিজস্ব একাডেমি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সেই শিল্পের সঙ্গেই নিজের জীবনকে যুক্ত রেখেছেন কবির প্রধান। নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর থেকে শুরু হওয়া তার এই পথচলা এখন দেশের বিভিন্ন মঞ্চ ও জাদু আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।