বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের নবনির্বাচিত সকল নেতৃবৃন্দকে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ খান মুকুল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি এই নির্বাচনের সম্পূর্ণ কৃতিত্বটা দিতে চাই বর্তমান নারায়ণগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন মাহমুদকে। কারণ তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
রেড ক্রিসেন্ট এর ইতিহাসে প্রথম নির্বাচন দিয়ে তিনি এই ইতিহাসের সৃষ্টি করেছেন। আপনারা জানেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কোন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম নয়; এটা একটি আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংস্থা। এখানে ভোটার সংখ্যা খুবই সামান্য এক হাজারের ও কম। তার উপর আবার এই লিষ্ট আপডেট নয়। এই সামান্য সংখ্যা থেকে অনেক সদস্য ইহকাল ত্যাগ করেছেন। অনেকে বয়সের ভারে শয্যাশায়ী। অনেকে আবার ঠিকানা স্থানান্তর করেছেন। সেই সাথে সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্যর মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত না থাকায় চিঠিই তাদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম।
কিন্তু সেই চিঠিও বেশিরভাগ সদস্যের হাতে পৌঁছেনি এসব বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এনে নির্বাচন করতে আরো সময় নেওয়া উচিত ছিল। নির্বাচন হচ্ছে তা অনেক সদস্য জানতেই পারেননি। কাজেই হাতে পর্যাপ্ত সময় না নিয়ে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে এই নির্বাচন আয়োজন করাটা ঠিক হয়নি। আমি জানি না এত স্বল্প সময়ে নির্বাচন আয়োজন করার পিছনে কোন চাপ ছিল কিনা? কারন এই আয়োজনটি সম্পূর্ণটাই ত্রুটিযুক্ত ছিল যেমন এই নির্বাচন করার আগে প্রথমেই ভোটার লিস্ট সঠিক এবং নির্ভুলভাবে ঠিক করার প্রয়োজন ছিল। এটা ঠিক না করায় ভোটার লিস্ট ছিল ত্রুটিপূর্ণ ভুলে ভরা।
দেখা গেছে কোথাও নিজের নামেই ভুল কোথাও বাবার নামে ভুল কোথাও মায়ের নামে ভুল এমন অনেক ত্রুটি ছিল। আর এই ত্রুটির সুযোগে বাইরে থেকে লিস্ট দেখে নাম বাবার নাম মুখস্ত করে যারা পুলিং এজেন্ট এর কাছে গিয়ে নাম বাবার নাম বলতে পেরেছে তারাই ভোট দিতে পেরেছে। এটা সঠিক ভাবে যাচাই করার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যেহেতু ভোটার লিস্ট ভুল এবং ত্রুটিপূর্ণ ছিল সেহেতু হয় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা রেড ক্রিসেন্ট আইডি হতে পারতো সঠিক মাধ্যম।
নির্বাচন কমিশনের সাথে মিটিং এ আমরা সেই প্রস্তাব দিয়েছিলাম কিন্তু কেন তা বাস্তবায়ন হয়নি আমরা জানি না। এছাড়াও উক্ত মিটিং এ সিদ্ধান্ত হয়েছিল নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী প্রার্থী সিরিয়াল হবে কিন্তু তাও না করে কার ইচ্ছায় বা কার প্ররোচনায় এভাবে সিরিয়াল করা হয়েছে তাও আমাদের বোধগম্য নয়। আপনারা জানেন গতকাল দশটায় শুরু হয়ে বিকেল চারটায় ভোট শেষ হয়েছে এর মাঝে ভোট পড়েছে মাত্র ৩৩৮ টি এই ৩৩৮টির মধ্যে যারা এজেন্ট এর কাছে গিয়ে নাম বাবার নাম বলতে পেরেছে তারাই ভোট দিতে পেরেছে। এর ফলে অসংখ্য পরিমান জাল ভোট পড়েছে।
এছাড়া নিয়ম করা হয়েছিল ভোটকেন্দ্রের গেটের বাইরে সমস্ত লোকজন থাকবে, শুধুমাত্র ভিতরে থাকবে ভোটার এবং প্রার্থীরা। শুরুটা সুন্দর ভাবে হলেও পরবর্তীতে কিন্তু আপনারা দেখেছেন ভেতরে এতটাই মানুষ ছিল যে কারা ভোটার কারা প্রার্থী বা কারা নির্বাচনী এজেন্ট সঠিকভাবে চেনা যায়নি। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় সবাই দেখেছেন।জেলা পরিষদের বাউন্ডারির ভিতরে দোতালা এবং তিন তলা সহ সব জায়গায় লোকে লোকারণ্য ছিল। দেখে কোন ভাবেই মনে হয়নি এটা একটা ভোট কেন্দ্র। হয়তোবা নির্বাচন কমিশন অসহায় ছিল অথবা পক্ষপাততুষ্ট ছিল।
এতসব অনিয়মের মাঝেই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনে হার জিত থাকবে। পরাজিত হয়েছি তাতে কোন ক্ষোভ বা দুঃখ নেই। আমার অভিযোগ সকল অনিয়ম ঘিরে। কোন ভাবেই এত স্বল্প সময়ে সকল ভোটারকে অবগত না করে এই নির্বাচন আয়োজন সঠিক পদ্ধতিতে হয়নি।





































আপনার মতামত লিখুন :