ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর আংশিক) আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি তিনজন হেভিওয়েট নেতা মোহাম্মদ আলী, শাহআলম ও গিয়াসউদ্দিন। তিনজনই নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ২০ জানুয়ারী ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। কিন্তু কেউ প্রত্যাহার না করাতে জমে উঠছে নির্বাচনের মাঠ।
বিএনপির হাইকমান্ড শুরু থেকেই এ আসনে সরাসরি দলীয় প্রার্থী না দিয়ে জোটগত সমীকরণকে অগ্রাধিকার দেয়। এর ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর নাম চূড়ান্ত করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পরপরই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। সেই ক্ষোভ আর গোপনে থাকেনি; প্রকাশ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন অন্তত তিনজন নেতা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি জোটের প্রার্থী কাসেমীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ স্থানীয়ভাবে তার নিজস্ব ভোটব্যাংক তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফতুল্লা এলাকার একটি বড় অংশের সাধারণ ভোটারের কাছে তিনি এখনও ততটা পরিচিত নন। বিপরীতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত এবং ভোটারদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগে এগিয়ে।
বিশেষ করে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে এই আসনের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও দলীয় সংগঠনকে সচল রাখার চেষ্টা করেছেন। ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন, আন্দোলনমুখী কর্মসূচি এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে আলোচিত।
অন্যদিকে, মো. শাহ আলমও এই আসনে একটি শক্ত নাম। ফতুল্লাকেন্দ্রিক এলাকায় তার নিজস্ব অনুসারী ও সাংগঠনিক শক্তি এখনো সক্রিয়। সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
পিছিয়ে নেই মোহাম্মদ আলীও। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃত্বে থাকার সুবাদে তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এলাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও কম নয়, যা নির্বাচনী লড়াইয়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এখন বিএনপির জন্য শুধু একটি নির্বাচনী আসন নয়, বরং জোট রাজনীতি, দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বতন্ত্র প্রার্থিতার বাস্তবতার এক কঠিন পরীক্ষাক্ষেত্র। তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতিতে জোটের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত কতটা টিকে থাকতে পারেন, নাকি ভোটের মাঠে সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয় তার উত্তর দেবে নির্বাচনই।
































আপনার মতামত লিখুন :