ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে বইছে ভিন্ন রকম এক হাওয়া। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এবার চোখে পড়ার মতো একটি বিষয় হলো প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের পুত্রদের সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা। বাবাদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা, নির্বাচনী মাঠ শক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করতেই একঝাঁক তরুণ নেতা এখন রাজপথে দাপট দেখাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর দুই ছেলে শান মোহাইন ভূঁইয়া ও মিকাইল রহমান ভূঁইয়া মাঠে নেমেছেন। দেশের বাইরে পড়াশোনা রেখে বাবার নির্বাচনের মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের দুই সন্তান এখনো শিশু। তবে আজাদকে আগলে রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ছোট ভাই ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম আজাদ। আড়াইহাজারের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। বিএনপির সকল নেতাদের মাঠে নামাচ্ছেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে মাঠে রয়েছেন তার ছেলে জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। নিয়মিত কর্মসূচি, মিছিল, সমাবেশ এবং সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে তিনি এলাকায় দলের শক্তি ধরে রাখতে কাজ করছেন। খায়রুল ইসলাম সজীবের রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ কেটেছে মামলা ও নির্যাতনের ভেতর দিয়ে। দীর্ঘ ১৬ বছরে অর্ধশতাধিক মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি। বাবার মতোই জনসংযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের দুই ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল এবং জেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্য সচিব কায়সার রিফাত এখন রাজনীতির মাঠে সমানতালে সক্রিয়। একজন থানা পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্বে, অন্যজন কৃষকদলকে চাঙা করতে মাঠে কাজ করছেন। সাদরিল ইতোমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলমত নির্বিশেষে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা, রক্তদান কর্মসূচি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান তাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। অন্যদিকে কায়সার রিফাত মাঠপর্যায়ে কৃষকদলকে পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এক সময় রাজনৈতিক হয়রানি, মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে এই দুই ভাইকে এলাকা ছাড়তে হলেও আওয়ামী লীগের পতনের পর তারা নতুন করে সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (বন্দর-সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালামের পক্ষে মাঠে আছেন তার ছেলে সাবেক স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ও সাবেক নাসিক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা। মহানগর রাজনীতিতে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ইতোমধ্যে আলোচিত। সক্রিয় রয়েছেন কালামের কন্যা অ্যাডভোকেট সামসুন নূর বাধন। আবুল কাউসার আশা নাসিক কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়েই দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তরুণদের সক্রিয়তার কারণেই নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী লড়াই আরও প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুত্রদের ওপর আস্থা রেখেই সংশ্লিষ্ট এমপি প্রার্থীরা নিজেদের বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে রাজনীতিক পুত্রদের এই উত্থান বিএনপির জন্য যেমন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে, তেমনি নির্বাচনী রাজনীতিতে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। সময়ই বলে দেবে এই তরুণ নেতারা বাবাদের ছায়া পেরিয়ে নিজেদের অবস্থান কতদূর শক্ত করতে পারেন।


































আপনার মতামত লিখুন :