News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

প্রার্থীদের নির্বাচন করতে টাকা দিবেন যাঁরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম প্রার্থীদের নির্বাচন করতে টাকা দিবেন যাঁরা

আসছে সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা যে হলফনামা দিয়েছেন সেখানে নির্বাচনের ব্যয় নিয়ে তাদের তথ্যে কেউ ধার দেনা, কেউ নিজ তহবিল হতে খরচের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু তার বিনিয়োগকৃত অর্থফেরত গ্রহণ, গৃহসম্পত্তির আয় ও নগদ অর্থ সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ ৩০ লাখ টাকা। নির্বাচনের জন্য স্ত্রীর কাছ থেকে পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ তার নিজ আয় হতে প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ ৩৬ লাখ টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৬ শতাংশ। পাঁচরুখী বাজার এলাকায় তার ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি দোকান রয়েছে। রয়েছে ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল্যের প্রাইজবন্ড। দায় রয়েছে ২৭ কোটি ৩ লাখ ৬৬ হাজার ২৩০ টাকা। তার বাৎসরিক আয় ৯ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।  

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর তার নিজ আয় থেকে ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বাড়ি ভাড়া ও ব্যবসায়িক আয় থেকে ১৫ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন। তার ভাই হান্নান মিয়ার কাছ থেকে পেয়েছেন ৫লাখ টাকা। আর হাছান বসরি নামের একজন স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তাকে ৫লাখ টাকা দিয়েছেন। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১২৫৯. ৬২ শতাংশ যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ১৮ লাখ ১৫হাজার ৭১০ টাকা। তার নামে থাকা দুটি দালানের মূল্য ৫ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৮ টাকা। তার বাৎসরিক আয় ৩০ লাখ ১২ হাজার ৫৭ টাকা এবং ব্যয় ৩০ লাখ ২১ হাজার ৭১ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গোলাম মসিহ নিজ এবং পরিবারের সদস্য থেকে পাওয়া মোট অর্থ দেখিয়েছেন ২৫লাখ টাকা। তার নামে থাকা দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তার বাৎসরিক ব্যয় বাৎসরিক আয়ের থেকে ৬ লাখ টাকা বেশি।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া চাকরী ও গবেষণা বাবদ সম্মানী থেকে নির্বাচনে ব্যয় করবেন ১০ লাখ টাকা। তার স্ত্রী এবং স্ত্রীর দুই ভাই থেকে সবমোট পেয়েছেন ১২ লাখ টাকা। গোলাম সারোয়ার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। তার মোট কৃষি ও অকৃষি জমির পরিমাণ ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার গৃহসম্পত্তি এবং অন্যান্য মোট সম্পদের মূল্য ৪৪ লাখ টাকা। তার বাৎসরিক আয় ১০ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় ৪লাখ টাকা।  

নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নিজের গৃহসম্পত্তির আয় থেকে নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ১৫লাখ টাকা। এছাড়া নির্বাচনের জন্য তার চার ছেলে ফয়সাল, সাদরিল, কায়সার ও সানভীরের কাছ থেকে নিয়েছেন ৮ লাখ টাকা এবং তার দুই বোন মাজেদা ও সুফিয়ার কাছ থেকে নিয়েছেন আরও দুই লাখ টাকা। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪৩০.৫০ শতাংশ যার আনুমানিক মূল্য ৬১লাখ ২৯ হাজার ৯০৮ টাকা। সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এবং হীরাঝিল এলাকায় তার নামে চারটি ভবন রয়েছে যার সবমোট মূল্য ১৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৪ হাজার ৫৭১ টাকা। তার ঋণ দায় রয়েছে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৪ টাকা। সব মিলিয়ে গিয়াসের বাৎসরিক আয় ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৫ টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় ১৮ লাখ ৩১ হাজার ১৪৬ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন শুধুমাত্র আপামর জনসাধারণ থেকে প্রাপ্ত ক্রাউড ফান্ডিং ৫৪ লাখ টাকা। তার অন্যান্য মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৬ লাখ টাকা। তার বাৎসরিক আয় ৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় ৪ লাখ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী তার ব্যবসা থেকে নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩০ শতাংশ যার আনুমানিক মূল্য ২৫ কোটি ৯৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। তার বাৎসরিক আয় ২৩ লাখ ৫ হাজার ৪০৩ টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় ৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহা আলম তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা থেকে নির্বাচনী হিসেবে দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯১৬. ৮৫ শতাংশ যার আনুমানিক মূল্য ৭ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার ৪৪৬ টাকা। রয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট। তার অন্যান্য সম্পত্তির পরিমাণ ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ১৯ হাজার ২৫৫ টাকা। তার বাৎসরিক আয় ৬০ লাখ ৯৪ হাজার ৫১১ টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮০টাকা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলার সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাশেমীর চাকুরী থেকে উপার্জিত আয় থেকে নির্বাচনের জন্য ব্যয় করবেন ১ লাখ টাকা। তার ফুপাতো ভাই জসিম উদ্দিন দিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২.৭৪ শতাংশ যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা। রয়েছে ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট যার আনুমানিক মূল্য ২৭ লাখ ১৭ হাজার ২১৫ টাকা। তার বাৎসরিক আয় ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের এমপি প্রার্থী তরিকুল ইসলাম সুজন তার পেশা ব্যবসা থেকে নির্বাচনের জন্য ব্যয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ টাকা। এছাড়া নির্বাচনের জন্য তার দুুই ভাই ফখরুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে নিয়েছেন ৪লাখ টাকা এবং শ্বশুর ও শ্যালকের কাছ থেকে নিয়েছেন দুই লাখ টাকা। তাছাড়া দুই আত্মীয় বিপ্লব খান ও ফরিদা পারভীনের কাছ থেকে পেয়েছেন দুই লাখ টাকা। পাশাপাশি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে শুভ দেবের কাছে থেকে ১লাখ টাকা, মাহমুদুর নবীর কাছ থেকে ১ লাখ, আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে দেড় লাখ, ফারহানা মানিকের কাছ থেকে ২ লাখ, জাহিদ সুজন এবং সোহেল রানার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা পেয়েছেন। আর গণসহায়তা থেকে পেয়েছেন ৫লাখ টাকা।  

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন শিক্ষকতা ও বাড়ি ভাড়া থেকে উপার্জিত আয় থেকে ব্যয় করবেন ১ লাখ টাকা। তার শ্যালক আশরাফুল ইসলাম মামুন থেকে এবং বোন রোকসানা থেকে পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তাকে শাহীন, ইলিয়াস, আওলাদ ও হোসাইন সবমোট দিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। তার সবমোট ৬২ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৮ টাকা মূল্যের জমি রয়েছে। পারিবারিক লোন রয়েছে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। তার বাৎসরিক আয় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

Islam's Group