News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না, দুই আসনেই লড়বেন গিয়াস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না, দুই আসনেই লড়বেন গিয়াস

দুটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর জোর গুঞ্জন উঠেছিল একটি আসন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো আসন থেকেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করছেন না। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর আংশিক) দুটি আসনেই তিনি নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন।

গিয়াস উদ্দিন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের চাপেই তিনি দুই আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তার ভাষায়, “একটি পক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গুজব ছড়িয়েছিল আমি একটি আসন থেকে সরে যাবো। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা। আজ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও আমি স্পষ্টভাবে জানিয়েছি দুটি আসনেই নির্বাচন করবো।”

তার এই অবস্থানের ফলে নারায়ণগঞ্জের দুই আসনেই নির্বাচনী উত্তাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা এখন একটাই গিয়াস উদ্দিনের উপস্থিতি পুরো নির্বাচনী হিসাব পাল্টে দিচ্ছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুরু থেকেই এই দুই আসনেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন গিয়াস উদ্দিন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে বিএনপির প্রার্থী করা হয় এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি জোটের সমঝোতায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর মাঠের রাজনীতিতে ভিন্ন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট প্রার্থী স্থানীয়ভাবে ততটা পরিচিত না হওয়ায় বিএনপি ঘরানার ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তার দিক থেকে জোট প্রার্থী পিছিয়ে রয়েছেন এমন মূল্যায়ন করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই শূন্যস্থানেই গিয়াস উদ্দিনকে ঘিরে নতুন করে জমে উঠেছে রাজনৈতিক সমীকরণ।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তিনি নিয়মিত মাঠে সক্রিয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নিজের পুরনো রাজনৈতিক ঘাঁটিতে ফের দৃশ্যমান উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে এখনো সবচেয়ে সংগঠিত ও পরিচিত রাজনৈতিক শক্তি গিয়াস উদ্দিনই। দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকার সুবাদে তৃণমূল পর্যায়ে তার প্রভাব এখনো দৃঢ়।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে দলীয় প্রার্থী থাকলেও গিয়াস উদ্দিন প্রার্থী হওয়ায় ভোটের অঙ্ক নতুন করে কষতে হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিদের। দুই আসনেই তার নাম ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন গিয়াস উদ্দিন। সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়ার্ড ও ইউনিটভিত্তিক কমিটি পুনর্গঠন, তৃণমূল আন্দোলন জোরদার করা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

ঘনিষ্ঠদের মতে, নেতাকর্মীদের চাপ ও জনসমর্থন তাকে আর পিছু হটবার সুযোগ দিচ্ছে না। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ভোটের মাঠে থেকে জনগণের প্রত্যাশার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই তিনি দুই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

সব মিলিয়ে সহানুভূতিশীল ভোট, তৃণমূলের আবেগ এবং শক্ত সংগঠন এই তিনের সমন্বয়ে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে উঠেছেন। শেষ পর্যন্ত তার এই দৃঢ় অবস্থান বিজয়ে রূপ নেয়, নাকি নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে তার উত্তর দেবে ভোটের মাঠ। তবে এটুকু নিশ্চিত, দুই আসনের রাজনীতিতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু গিয়াস উদ্দিন।