News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

ইসদাইর ও চাষাঢ়াতে একচ্ছত্র মাদক ব্যবসা, শহরের ভয়ঙ্কর খুনী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম ইসদাইর ও চাষাঢ়াতে একচ্ছত্র মাদক ব্যবসা, শহরের ভয়ঙ্কর খুনী

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকাতে রায়হান মিয়া খুন হওয়ার পর আবারো আলোচনায় এক ব্যক্তি। তার নাম রাজ্জাক মিয়া। চাষাঢ়া থেকে ইসদাইর বাজার পর্যন্ত সড়কে মাদকের যে হাট বসে সেটার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক তিনি। এর আগেও মাদক নিয়ে শামীম নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন তিনি। একাধিক হত্যাকাণ্ড ছাড়াও গুমের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। রয়েছে বিশাল অস্ত্রধারী বাহিনী। ধরাকে সরা জ্ঞান করা এ রাজ্জাক এলাকার একচ্ছত্র মাদকের অধিপতিও বলা চলে।

পরিবারের লোকজন বলছেন, রাজ্জাক ও তার বাহিনীর সাথে রায়হানের দ্ধন্ধ ছিলো। সেই দ্বন্ধের জের ধরে আলী, ফরিদ, রাজ্জাক, শরিফ সহ ৮/১০জন ডাকবাংলার উল্টো দিকের নতুন রাস্তা মনসুর মিয়ার হোটেলের সামনে ১২ জানুয়ারী রাতে রায়হানকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে মাদক স্পটের টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ইসদাইরে প্রকাশ্য দিবালোকে মাদক ও হত্যা মামলার আসামি শামীমকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করে রাজ্জাক ও তার বাহিনীর লোকজন। ২০২২ সালের ৬ মার্চ বেলা সাড়ে বারোটায় রাজ্জাকের ভাঙারীর দোকানের ভিতর শামীমকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আদর্শ ইসদাইর এলাকায় টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে চলে যায় গ্রেফতারকৃত রাজ্জাক। তথ্য প্রযুক্তি এবং নিজস্ব সোর্সের সহায়তায় এপ্রিলে তাকে পাগলা বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ইসদাইরে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাকের ঘর তল্লাশি করে পাওয়া যায় ম্যাগজিন ২টি, গুলি ৩ রাউন্ড, খেলনা পিস্তল ১টি, সুইচ গিয়ার চাকু ১টি, স্টিলের তৈরি ছোরা ৪টি, ১টি দা এবং ১ কেজি গাঁজা।

ফতুল্লার ইসদাইরে দেড় মাসের ব্যবধানে মোবারক হোসেন (৩২) ও নজরুল ওরফে বগল (২০) নামের দুই যুবক অপহরণের পর গুম হয়েছে অভিযোগ রয়েছে রাজ্জাক ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর ফতুল্লার ইসদাইরস্থ ভাড়া বাসা থেকে রাত দুইটার দিকে লেগুনা নজরুল ওরফে বগলকে ডেকে নিয়ে যায় ওয়াসিম ও তার সহোযোগিরা। কিন্ত রাত শেষ হয়ে দিন অতিবাহিত হলেও নজরুল ওরফ বগল ফিরে আসায় পরিবারের সদস্যরা ওয়াসিমের বাবা রাজ্জাক সহ অপর অভিযুক্তদের নিকট যায়। সেখানে তারা নজরুল ওরফে বগলের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলে যে তাদের নিকট আছে। এ বিষয়ে বেশী কথা বললে বা আইনের আশ্রয় নিলে তাদেরকে হত্যা করার হুমকি প্রদান করে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে নজরুল ওরফে বগলের বাবা হরমুজ মুন্সি ৫ ডিসেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় ওয়াসিম (২০), জসিম (২৩) তাদের পিতা রাজ্জাক (৫০), ফরিদ(৪৮) ও আলী (৪৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় অপহরন এবং গুমের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে এই একই চক্রের হাতে ১৮ নভেম্বর রাত একটার দিকে ইসদাইর নতুন বাজার মসিজদ সংলগ্ন রাস্তা থেকে মোবারক হোসেন নামের অপর এক যুবক অপহৃত হয়। এঘটনায় মোবারক হোসেনের বাবা খলিল বাদী হয়ে ঘটনার ৫ দিন পর ২৩ ডিসেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় ১৮ নভেম্বর রাত ১ টার দিকে চাষাঢ়া বালুর মাঠ থেকে বাসায় ফেরার পথে ইসদাইর নতুন বাজার মসজিদের সামনে আসা মাত্র লিটন আলীর নেতৃত্বে ৮/১০ সন্ত্রাসী মেবারক হোসেনকে অপহরন করে। পরবর্তীতে ২৩ নভেম্বর অপহৃত যুবক মোবারকের বাবা মোঃ খলিল বাদী হয়ে লিটন আলী,জাকির হোসেন, জসিম, বুলু ও রাজ্জাক সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরর পর লিটন আলী ওরফে সোর্স লিটন সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে অপহরণ গুমের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় রানা ও অন্তর নামে দুই বন্ধুকে প্রকাশ্যে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে কুকুরের মুখে বিদ্ধ হয়। এতে অল্পের জন্য বেঁচে যান দুজন।

অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া রানার বাবা রিপন জানান, তিনি রাবেয়া স্কুলের কাছে ছেলে রানাকে সঙ্গে নিয়ে পুরাতন কাগজের ব্যবসা করেন। এই এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম ও মোবারক নামে দুজন অপহরণের পর গুম হয়েছে। দুই মাসের বেশি সময় তাদের দুজনের কোনো সন্ধান পুলিশ দিতে পারেনি। এ ঘটনায় জড়িত মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাক বাহিনীর কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের গুরুত্বসহকারে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি পুলিশ। এতে রোববার সকালে দুই পরিবারের সঙ্গে আমার ছেলে রানা তার বন্ধু অন্তর নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেয়। এদিন সন্ধ্যার সময় রানা তার বন্ধু অন্তরকে নিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছেই দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্ত মহড়া দেয়। তখন রানা ও অন্তর তাদের সামনে পড়ে। এতে দুজনকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে কুকুরের মুখে বিদ্ধ হয়। তখন ভয়ে রানা ও অন্তর মহল্লার গলি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

Islam's Group