News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

এক গিয়াসে বেকায়দায় দুই আসনের বিএনপি প্রার্থী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম এক গিয়াসে বেকায়দায় দুই আসনের বিএনপি প্রার্থী

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতায় বেকায়দায় রয়েছে বিএনপি ও জোট মনোনীত দুটি আসনে দুইজন সংসদ সদস্য প্রার্থী। ওই দুই প্রার্থী হলেন নারায়নগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাশেমী।

আর বহিষ্কৃত ওই বিএনপি নেতা হলে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

তিনি একাই এই দুটি আসনের এই দুই প্রার্থীর ঘুম হারাম করে রেখেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, নির্বাচনের আলোচনার পর থেকেই চতুর গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জের দুইটি আসনকে টার্গেট করে। সে সময় সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা নিয়ে ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। আর গিয়াস উদ্দিন এর আসন থেকে বিএনপির এমপি মনোনীত হয়েছিলেন ২০০১ সালে। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণার পাশাপাশি সোনারগাঁয়েও বিভিন্ন সভা সমাবেশ শুরু করেন। পাশাপাশি ওই আসন থেকেও নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে গিয়ে নির্বাচনের ইঙ্গিত দেওয়ায় সে সময় অনেকেই হতবাক হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় নির্বাচন কমিশন সীমান পুন:নির্ধারণ করে সিদ্ধিরগঞ্জকে সোনারগাঁয়ের সাথে যুক্ত করে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওতায় নিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে সিদ্ধিরগঞ্জকে সোনারগাঁয়ের সাথে যুক্ত করার কুশিলবদের নাম বেরিয়ে আসতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাদের নাম প্রকাশ পায় দেখা যায় তারা সকলেই সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী। তাই কারো আর বুঝতে বাকি থাকে না সিদ্ধিরগঞ্জকে সোনারাগাঁয়ের সাথে যুক্ত করতে মূল মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন সাবেক এই এমপি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

তিনি দুইটি আসনেই লাগাতার প্রচারণা এবং সভা সমাবেশ শুরু করেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে তাকে কোন আসনেই মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে গিয়াস উদ্দিন সোনারগাঁয়ের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে ঐক্যমঞ্চ গড়ে মান্নানের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তুলেন। মান্নানের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে সড়ক অবরোধ সহ মানববন্ধন মশাল মিছিলও করা হয়। এমন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে গিয়ে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েন মান্নান। ঢাকার এক সাংবাদিককে বক্তব্য দিতে গিয়ে লাগানহীন কথাবার্তা বলে বসেন। সেই বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে বেকায়দায় ফেলে দেওয়া হয় আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। ওই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ায় মান্নান। দলীয় মনোনয়ন জমা দেওয়া আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবুও যেন স্বস্তিতে নেই তিনি। তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। আগামী ১৯ জানুয়ারি সেই আপিলের শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের আপিল আবেদনে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন পত্রের সাথে দাখিল করা হলফনামার তথ্য সঠিকভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নেননি। সঠিকভাবে যাচাই না করেই মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। হলফনামা সঠিকভাবে যাচাই করলে তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ার কোন সুযোগ নেই এবং বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

আপীলে গিয়াসউদ্দিন উল্লেখ করেন, বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে ফর্ম ২১ এ ভুল এবং মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করেছেন এবং বার্ষিক আয় গোপন করেছেন। তাছাড়া তিনি ০২ (দুই) অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি ৫২,৬৮০ টাকার অবশিষ্ট ব্যালেন্স প্রকাশ করেছেন কিন্তু প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, বসুন্ধরা শাখা, ঢাকায় রক্ষিত অ্যাকাউন্ট নম্বর ২১৬৫১১ ২০০২০৪০ প্রকাশ করেননি। এছাড়াও প্রিমিয়ার ব্যাংকে রক্ষিত আরেকটি অ্যাকাউন্টও প্রকাশ করেছেন। এটা বলাই বাহুল্য যে রিটার্নিং অফিসার যদি তদন্ত করেন তবে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত প্রায় দশটি অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাবেন কিন্তু আপত্তি উত্থাপন করা সত্ত্বেও রিটার্নিং অফিসার তদন্ত না করেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবৈধভাবে বিবাদী নং ৪ এর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন।

আজহারুল ইসলাম মান্নান ৫ সন্তানের জনক কিন্তু তিনি মনোনয়নপত্রে ০২ (দুই) পুত্রের নাম উল্লেখ করেছেন এবং ০৩ জন ছেলের নাম গোপন করেছেন। তার ছেলে খায়রুল ইসলাম সজিব এবং সাইদুল ইসলাম শাকিল হলেন মিলিনিয়ার যাদের ঊঞওঘ নম্বর রয়েছে। তার স্ত্রীরও ঊঞওঘ নম্বর রয়েছে এবং তাদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে আজহারুল ইসলাম মান্নান নির্বাচনে অবৈধ জয়লাভের জন্য কালো টাকা ব্যবহার করবেন।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আজহারুল ইসলাম মান্নান তার পেশা এবং ব্যবসার বিবরণ গোপন করেছেন। তিনি ‘মেসার্স একতা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনস’ নামে একটি ফার্ম পরিচালনা করেন যার তথ্য হলফনামায় গোপন করেছেন, তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্রে উক্ত ফার্মের অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, ১৪ অনুচ্ছেদের (১) ধারার অধীনে যাচাই বাছাইয়ের প্রক্কালে আপত্তি উত্থাপন করার পরেও উত্থাপিত আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই রিটার্নিং অফিসার অবৈধভাবে আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র গ্রহন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, রিটার্নিং অফিসারের উচিত ছিল  উক্ত আপত্তির উপর সংক্ষিপ্ত তদন্ত পরিচালনা করা কিন্তু আইনের বিধান মেনে না চলে অবৈধভাবে আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাতিলযোগ্য।

আপীল নিস্পত্তির মাধ্যমে আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ দুটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। দুটি আসনেই তার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কার হয়েও যেন থেমে নেই মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এখন পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ফতুল্লায় বিএনপির একটি বড় অংশ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে মাঠে রয়ে গেছেন। অপরদিকে আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত মোহাম্মদ শাহ আলমের পক্ষেও বিএনপি একটি অংশ মাঠে কাজ করছেন। ফলে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীকে এর জন্য বেগ পেতে হচ্ছে। অনেকটা বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। মোট কথা এক গিয়াস উদ্দিনে বেকায়দায় বিএনপি মনোনীত দুটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group