নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন যেন রীতিমত বিএনপিকে ওয়াকওভার দিতে চলেছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামী দলের জোট। ৫টি আসনেই বিএনপির চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটের মাঠে তাদের কর্তৃত্ব একেবারেই থাকছে না মনে করা হচ্ছে। এদিকে আসন সমঝোতা না হওয়ায় জোট থেকে বেরিয়ে আসা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচজন প্রার্থীই নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন করবেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা। এখানে বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। তিনি বেশ শক্তিশালী। এখানে জামায়াতের প্রার্থী এখনো নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে ইমদাদুল্লাহ লড়বেন। তিনিও বেশ দুর্বল।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর ইলিয়াছ মোল্লা কিছুটা শক্ত। বিগত দিনে বিএনপির সঙ্গে একাধিক মারামারির ঘটনা ঘটেছে অনুসারীদের। এখানে বিএনপির হয়ে লড়ছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে আছেন সাবেক তিনবারের এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকাতে ভালো অবস্থানে থাকবেন জামায়াতের প্রার্থী। এ আসে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হলেন মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ। তিনিও দুর্বল প্রার্থী হিসেবে পরিচিত এলাকাতে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বেশ কয়েক মাস ধরেই বেশ আলোচিত। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গোলাম মসীহ্। এখানে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, বিদ্রোহী হিসেবে লড়তে পারেন সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করিম। রয়েছে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের নাম।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ছিল জামায়াতের জন্য উর্বর। কিন্তু এখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল্লাহ আল আমিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে শাপলা কলি প্রতীকে। তিনি এলাকাতে অপরিচিত মুখ। থাকতেন সিদ্ধিরগঞ্জে। সেখানে তাঁর বাবা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচন করেছিলেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে একেবারেই তিনি নতুন মুখ। ভোটারদের কাছে কোনভাবেই ভিড়তে পারেনি তিনি। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজী। তিনি ভোটের মাঠে ইতোমধ্যে নিজেকে মেলে ধরেছেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি ফতুল্লার অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন। ইতোমধ্যে হাতপাখার জোয়ার ঘটেছে এখানে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফজত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন আলোচিত ও পরিচিত মুখ। তিনি এর আগেও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করেছিলেন। এ আসনটিও ছিল জামায়াতের জন্য ভালো। কিন্তু জামায়াত এখানে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা মাঈনউদ্দিন আহমদ ছিলেন এ আসনের আলোচিত ও পরিচিত মুখ। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি আবুল কালাম। স্বতন্ত্র লড়বেন বন্দরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন। ফলে এখানে জামায়াতের প্রার্থী থাকলে ভোট জমে উঠতো। এখানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ পরিচিত একজন। তিনি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করেছিলেন। শহরে তার পরিচিতি আছে।

































আপনার মতামত লিখুন :