নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুমুখী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ঘন ঘন দল পরিবর্তনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ইয়ানবী মেম্বার। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। বিশেষ করে তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়ানবী মেম্বার বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও বিএনপি, আবার কখনও জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের ঘনিষ্ঠ বলয়ে অবস্থান করতেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
তবে গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুনরায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি হরিবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় একটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ইয়ানবী মেম্বার। স্থানীয়দের মতে, আসন্ন মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিতেই এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইয়ানবী মেম্বারের একটি পুরোনো ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে।
মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, ইয়ানবী মেম্বার অতীতে যে দল ক্ষমতায় ছিল, সেই দলের সঙ্গেই নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন এবং রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সামনে আনা হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইয়ানবী মেম্বারের বক্তব্যের জন্য একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।




















-20260603135648.jpg)









আপনার মতামত লিখুন :