News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জে যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম নারায়ণগঞ্জে যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা

নারায়ণগঞ্জে একের পর এক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি সামাল দিতে যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা করছেন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। একের পর এক অপকর্মে বিব্রত হচ্ছে সরকার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। প্রতিনিয়ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে যৌথ অভিযানের কথা উঠে আসছে বার বার। যেই অভিযানের মধ্য দিয়ে বিপুল সংখ্যক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি গুড়িয়ে দেয়া যাবে অপরাধীদের আস্তানা।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে হেঁটেছে। দফায় দফায় হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ ও র‍্যাব। পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনিয়ে নেয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। এমন পরিস্থিতিতে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, ভুমিদস্যুতা, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি বেড়েছে কয়েকগুন। পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ভীতি কমে যাওয়ায় সাহস বেড়েছে অপরাধীদের।

তবে যত বেশী ভয় কমেছে পুলিশের উপর, তত বেশী বিব্রত হতে হচ্ছে সরকারকে। সেই সাথে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রশ্নের মুখে পড়ছেন বার বার। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সভায় সকলকে ধৈর্য্য ধারনের আহবান জানিয়েছিলেন। দ্রুতই এই বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নিবে বলে আশ্বাস দেন। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিকল্পনার বিষয়ে। এরপর দিন দিন পরিস্থিতি যেভাবে অবনতির দিকে গিয়েছে, তাতে সেই পথে হাটার কথাই ভাবছে প্রশাসন।

১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের উপর হামলা বেড়েছে আশংকাজনক হারে। রূপগঞ্জের চনপাড়া, আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া, সোনারগাঁয়ের চরাঞ্চল, মহাসড়ক, ফতুল্লার কুতুবপুর, কাশিপুর এবং সদরের মাসদাইর, জিমখানা এলাকা অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে। এসব অপরাধ প্রবন এলাকায় একের পর এক অঘটন ঘটলেও পুলিশ সেভাবে সাহস করে অভিযান চালাতে পারছে না। রয়েছে নিজেদের উপর হামলা হওয়ার ভয়। গত কয়েকমাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলার পর কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও অপরাধস্থলে সেভাবে প্রভাব পড়েনি। কার্যক্রম চলছে আগের মতই।

এমন অবস্থায় ঈদের পর যৌথ অভিযান হতে পারে এমন ইঙ্গিত দেন জেলার একজন সংসদ সদস্য। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলাপচারিতার পর মন্ত্রীর থেকে আশ্বাস মিলেছে যে ঈদের পরে শুরু হতে পারে যৌথ অভিযান। যেখানে মাদক সহ সবধরণের অপরাধীদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

তবে এই জেলায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অভিযান জরুরী হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন জেলা সুজনের সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল। তিনি বলেন, ‘আমরা চোখের সামনে এই শহরকে অনিরাপদ হয়ে উঠতে দেখছি। এখানে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি বেড়েই চলছে। নাগরিকরা রাতে বের হতে ভয় পাচ্ছে। থানায় গিয়ে প্রতিকার মিলছে না। উল্টো অভিযান চালাতে গিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আক্রান্ত হতে দেখছি। এগুলো স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত ভিত্তিতে প্রশাসনকে শক্ত হাতে অপরাধ নির্মূল ব্যতিত ভিন্ন কোন উপায় নেই। অপরাধস্থলগুলোতে অভিযানের পাশাপাশি অপরাধীরা যেন দ্রুতই জামিনে বেরিয়ে না আসতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’