News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিং, জানেনা পুলিশ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিং, জানেনা পুলিশ

নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে একের পর এক মিছিল করে যাচ্ছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা। যুবলীগের দায়িত্ব কে পাবে সেই প্রতিযোগীতায় নেমেছে নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই প্রান্তের দুই নেতা। তারা হলেন প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে ও ত্বকী হত্যা মামলার অন্যতম হোতা আজমেরী ওসমান। অন্যদিকে রয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাফায়েত আলম সানি। এই দুই নেতার পদ পাওয়ার প্রতিযোগীতা থেকে প্রায়ই নামছে যুবলীগের মিছিল।

ঝটিকা এসব মিছিল এক থেকে দুই মিনিট স্থায়ী হয়। দ্রুত মিছিলের ভিডিও ধারণ করে সরে যায় কর্মীরা। এরপর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আওয়ামী লীগের দলীয় পেইজ থেকে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়।

উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্যে রয়েছে শহরের চাষাঢ়া, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, চাষাঢ়া আদমজী সড়ক, বন্দর ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, পঞ্চবটি, গোগনগর অন্যতম।

এসব এলাকায় দ্রুত ঝটিকা মিছিল করে পালিয়ে যায় আওয়ামী লীগে কর্মীরা। অধিকাংশ সময়েই থেকে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে। তবে মাঝে মধ্যে ছাত্রদল, এনসিপি এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে এসব কর্মসূচী থামিয়ে দিতে।

সম্প্রতি ঈদের আগে মিছিল করার পূর্ব মুহুর্তে দুই আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটক করে মারধর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এরপর তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। একই ভাবে শহরের গ্র‍্যান্ড হল রেস্তোরাঁয় কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য প্রকাশ করে দেয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা সরাসরি আইন হাতে তুলে না নিলেও বিষয়টি পুলিশকে অবগত করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে।

এরপর প্রায় পৌনে ১ ঘন্টা পর পুলিশ এসে তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে শিবিরের নেতাকর্মীরা দাবী করেন, ঘটনাস্থলে প্রায় ৪০ জন উপস্থিত ছিলো। পুলিশের ধীরগতিতে আগমনের কারনে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তারা। সেসময় দেখা যায় আটককৃতরা মতলব অঞ্চলের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তারা সেখানকার সাবেক এমপি মায়া চৌধুরীর ঘনিষ্ট অনুসারী।

সবশেষ ১ জুন সকালে সদর থানাধীন গোগনগর ফকিরবাড়ি এলাকায় ঝটিকা মিছিলের চেষ্টাকালে এনসিপির নেতাকর্মীদের ধাওয়ার মুখে পড়ে যুবলীগের কর্মীরা। আজমেরী ওসমানের পক্ষে মিছিল করতে গিয়ে রোষানলে পড়ে তারা। এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে আশেপাশের সাধারণ মানুষও তাদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে জমির আইল ধরে দৌড়ে পালিয়ে যায় যুবলীগ কর্মীরা।

তবে অধিকাংশ মিছিল কিংবা বৈঠকের বিষয়ে কিছুই জানে না পুলিশ। অথচ বিগত সময়ে বিএনপি এবং জামায়াত কোথায় মিছিল করতে পারে তা আগে থেকেই জেনে যেত পুলিশ। সেখানে ওঁত পেতে থাকতো পুলিশের গোয়েন্দা সদস্যরা। মিছিল নামানোর সাথে সাথেই আটক করতো। কখন কখনও গুলি বর্ষণও করেছে এই পুলিশ সদস্যরা। অথচ বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা মিছিল করলে তার কিছুই জানতে পারে না পুলিশ। যা নিয়ে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে।

বিগত ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীরা বলছেন, আগে আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতাম। সেই আন্দোলনে পুলিশের অতিউৎসাহী ভুমিকা আমরা দেখেছি। রাতভর পুলিশ বাসা বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। আর মিছিল করার আগেই সব টের পেয়ে যেত। এখন সেই পুলিশ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যাপারে উদাসীন। আমরা নিষিদ্ধ না হওয়ার পরেও আমাদের যেই পরিমান বাঁধা দেয়া হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবার পরেও তার ছিটেফোঁটা দেখা যায়না। উলটো তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আর মাঝেমধ্যেই ঝটিকা মিছিল করে শহরে অস্থিরতা তৈরী করে।