News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় নির্বাচন করেছিলাম : গিয়াস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় নির্বাচন করেছিলাম : গিয়াস

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার বলেন, “আমি দুর্দিনে জেলা বিএনপির সভাপতি দায়িত্ব পালন করে নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। সেই সুবাধে তাদের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক যখন আমাকে মনোনয়ন দেওয়া না হয় তখন তারা তা মেনে নিতে পারে নাই। তখন আমি তাদের বুঝিয়ে বলেছিলাম দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলাই ভালো হবে। কিন্তু তখন তারা আমাকে এমন চাপ প্রয়োগ করে যে আমি তখন বাধ্য হই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য। আর গণতান্ত্রিক দলীয় ব্যবস্থায় কেউ যদি অন্যায় করে, কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয় শুধুমাত্র মোসাহেবি করলে চলে নাহ। প্রতিবাদ করার মতোন, সত্য বলার মতোন সাহসিকতা থাকা প্রয়োজন। সেই সাহস আমাকে দিয়েছে। আমি অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করি নাই এবং কোনো অন্যায় সিদ্ধান্তকে মেনে নেই নি। সেই চিন্তা থেকেই আমি নির্বাচন করেছিলাম দল সেটাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারে নি এটাই স্বাভাবিক। সেজন্য আমাকে বহিষ্কার করেছে। আমি এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চাই না। দলই একদিন উপলব্ধি করবে কার প্রতিবাদটা ঠিক ছিল। আর কার মোসাহেবিটা ক্ষতিকারক ছিল। এতে করে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়ে নাই। আমরা স্বতস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তবে নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছিল আমরা পর্যবেক্ষণ করছিলাম কার কি অবস্থা। তবে যে কারণে আমি নির্বাচনে গেলাম, এখানে কি করে আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে। তবে কৌশলগতভাবে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেই। কার বিজয় হলে অন্ততপক্ষে এই প্রতিবাদটা এটা অন্ততপক্ষে বাস্তবায়িত হবে। সেটা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে হয়েছে। দুটো আসনে আমার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তা কখনো হওয়ার কথা না। কেননা মানুষের কাছে আমার যে গ্রহণযোগ্যতা, আমার প্রতি আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা অনেক রয়েছে। তবে আমরা কৌশলগতভাবে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।”

খালেদা জিয়ার মৃত্যুদিনে বহিষ্কার হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী নিজ আমাকে এক দল থেকে এই দলে আনেন এবং আমাকে ২০০১ সালে দলীয় মনোনয়ন দেন। বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান ওইসময় আমার জন্য যথেষ্ট করেছেন। আমি সেজন্য কৃতজ্ঞ। নেত্রী যেদিন দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন সেদিনই দল থেকে আমাকে বহিষ্কার করা হলো। এটা আমার জন্য পেইনফুল ছিল। সেজন্য আমি বলেছিলাম যে নেত্রী আমাকে দলে নিয়ে আসলেন, আমাকে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ করে দিলেন তার মৃত্যুর দিন দল আমাকে বহিষ্কার করলো। এটা আমার জন্য খুবই বেদনাদায়ক ছিল। বহিষ্কার আগে পরেও করতে পারতো। তাদের রাইট ছিল। আমার বিশ্বাস আমার মনে হয় না যে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দিনেই আমাকে এবং ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কারাদেশ দিবেন। এখনো এটা আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। কারণ উনার সঙ্গে তো আমি কাজ করেছি। উনি আমাকে ভালো করেই চিনেন। দলের জন্য আমি কি ভূমিকা রেখেছিলাম উনি তা ভালো করেই জানেন। সেই হিসেবে আমি মনে করি এটা দলের অন্যান্য পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের ঢালাও যে বহিষ্কার ছিল সেটাও আমাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়। বিএনপি এখন আন্দোলন সংগ্রাম শেষ করে ক্ষমতায় আছেন। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তো সব জায়গায় প্রতিকূল পরিবেশ থাকে। কর্মীর অভাব থাকে নাহ। ডাক দিলেই অনেক কর্মী হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে বিষয়টা বিবেচনায় আনার সুযোগ মনে করি না। আর আমিও এখনো কোনোভাবেই এই নিয়ে চিন্তা করছি না।” 

সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।