বিগত আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টির সরকার আমলে নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতায় ছিলেন নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, এমপি সেলিম ওসমান ও এমপি শামীম ওসমান। ক্ষমতাসীন হয়ে তাদের মধ্যে বিরোধী দেখেছেন দেশে বিদেশে থাকা কোটি কোটি মানুষ। টিভি পর্দা থেকে সড়কে একে অপরের মধ্যে যুদ্ধ রীতিমত নারায়ণগঞ্জের মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ সৃষ্টি হত দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে। ওই সময়ে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের ওসমান আশ্রয়ে দেখা যেত। এগুলো ৫ আগষ্টের পর একাধিক নেতাদের মুখে আলোচনা সৃষ্টি হয়। যার কারণে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতারা আইভী, শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের গ্রেপ্তার নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। তবে ব্যতিক্রম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর ক্ষেত্রে।
২০২৪ এর ১৫ আগষ্ট শেখ মজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী পালন করা নিয়ে আইভীকে গ্রেপ্তার দাবি জানান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। ওই দিন বিকালে আইভীকে মেয়র থেকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার দাবি করেছিলেন টিপু। তার সূত্র ধরে আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানও এমন দাবিতে তুমুল আলোচনা সৃষ্টি হয়। কারণ মেয়র দায়িত্ব নিয়ে আইভী ও ক্ষমতাচ্যুত এমপি সেলিম ওসমান নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও শামীম ওসমান ছিলেন বিদেশে পলাতক। ফলে আইভী নারায়ণগঞ্জ অবস্থান করতে দেখা গেলেও সেলিম ওসমান ছিলেন ঢাকা ও বাহিরের জেলার বাংলোতে।
এর কয়েক দিন পর জেলা প্রশাসনের একটি সভায় আইভী, সেলিম ও শামীম ওসমানকে গ্রেপ্তার দাবি জানান বিএনপি নেতা টিপু। তার পর কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ সহ জেলা মহানগরের শীর্ষ নেতারা দাবি করেন।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি সাবেক এমপি সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন টিপু। রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১দফা বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্ততা ও লিফলেট বিতরণ এবং শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, খুনি সেলিম ওসমান এখনো বাংলাদেশে রয়েছে তাকে গ্রেপ্তার করুন আর খুনের মামলার আসামি হয়ে মেয়র আইভী বাড়িতে বসে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে বৈঠক করে এবং ষড়যন্ত্র করছে। আমি নারায়ণগঞ্জের এসপি ও ডিসিকে বলতে চাই অনতিবিলম্বে খুনি সেলিম ওসমান ও মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার করবে নারায়ণগঞ্জবাসীকে সুখে শান্তিসে বসবাস করার সুযোগ করে দিবেন।
গত বছর অন্তবর্তী সরকার আমলে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর হামিদ বিদেশ গমন নিয়ে পুরো দেশ যখন হৈচৈ শুরু হয় তখন আইভীকে গ্রেপ্তারে নামে পুলিশ। রাতভর অভিযান শেষে ভোরে তিনি পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়ে ১৩ মাস কারাবন্দি ছিলেন। সেলিম ওসমান একাধিক মামলার আসামী হলেও এখনো বহাল তবিয়তে থাকায় সমালোচনা করেছেন আবারো বিএনপি টিপু।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জে গডফাদার ওসমান পরিবার এখনো উঁকিঝুকি মারছে। এখনো উইজডমে এসে মিটিং করে। আমি নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই ঈদ উল আযহার দিনও ওই গডফাদার সেলিম ওসমান উইজডমে এসে ঈদ পুনর্মিলনী করেছে আপনারা কি করছেন? আগামীতে যদি আপনারা সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তার না করেন আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে গ্রেপ্তার করে ধরে নিয়ে আসবো। কারণ উইজডমে বসে এখানে নারায়ণগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টা করবেন তা হতে দেওয়া হবেনা।
এদিকে বিএনপির নেতা এমন বক্তব্যে যখন পুরো নারায়ণগঞ্জ উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তখন রাতেই নাসিকের মেয়র আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ১২টি মামলা জামিনে তিনি হাইকোর্ট থেকে মুক্তি পান কারাগার থেকে।
অপরদিকে গত ১১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছিলেন ১৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল-আমিন প্রধান। তার দাবি, শামীম ওসমানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই টিপু বিএনপির পদে থেকে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের গোপন পরামর্শ ও নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি পরিচালনা করছেন।
ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে আল-আমিন প্রধান বলেন, টিপু শামীম ওসমানের পরামর্শে এখনো বিএনপি চালাইতাছে। টিপু দলকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার মিশনে নেমেছেন এবং তার কারণেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা আজ অতিষ্ঠ।
এই অভিযোগের পর মহানগর বিএনপির ভেতরে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যার কারণে দীর্ঘ সময়ে টিপু ও আল আমিনের পাল্টাপাল্টি পোষ্টে দলের নেতা-কর্মীরা বিব্রত অবস্থা পড়েন।





























-20260603135648.jpg)


আপনার মতামত লিখুন :