আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা সরব রয়েছেন। তারা কয়েকদিন পরপরই আওয়ামী লীগের পক্ষে একেক দাবীতে মিছিল করে আসছেন। পুরো নারায়ণগঞ্জ জুড়েই তারা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। তবে তাদের এসকল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীরা বেশ বিপদে রয়েছেন।
এমনিতেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিবার পরিজন ছেড়ে দিন যাপন করছেন। আর আজমেরী অনুসারীদের মিছিলের পর তারা আরও বেশি গ্রেপ্তার আতঙ্কে থাকেন। নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের তল্লাশী চলে। সেই সাথে পরিবার পরিজনদের বিভিন্ন রকমের জেরার মুখে পড়তে হয়।
সবশেষ আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা শহরের চাষাঢ়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। আর এই মিছিলের পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনো স্বস্তি নেই। অন্যসময় তারা মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতে পারলেও মামলার পর থেকেই তারা বাড়ি-ঘরে ধারে কাছেও যেন ঘেঁসতে পারছেন না।
জানা যায়, গত ২১ মে যুবলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই সাথে পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০ মে মহানগর যুবলীগের ব্যানারে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকলেই ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের সমর্থক।
এদিন মিছিলে অংশ নেওয়ার সকলের মুখে ছিলো লাল কাপড়। মহানগর যুবলীগের নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন দাবি করে লেখা সম্বলিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের ছবি দেওয়া ব্যানারটি নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি মুখে লাল ও সাদা কাপড় বেধে হাতে ছোট ছোট বেশকয়েকটি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে মিছিল করতে করতে শহরের খাজা সুপার মার্কেটের সামনে থেকে রাইফেলস ক্লাবের সামনে দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের দিকে ঢুকতে দেখা গেছে। এ সময় তারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার ফিরে আসার ¯েøাগান দেন।
সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবিতে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. ফিরোজ আল মামুন বাদী এই মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় সাফায়েত আলম সানী, জামির হোসেন রনি ও মো. কায়কোবাদ রুবেল সহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার আসামীর তালিকায় থাকা অন্যরা হলেন- মনির হোসেন (৪৮), বজলু (৪৫), মো আফজাল মিস্ত্রী (৪৮), পীর মোহাদ্দম শাওন (৩৭), অভি (২৮), মো. আমির হোসেন সনেট (৩৬), আরিফ পাঠান রকি (২৮), জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল (৪০), পাগল হামিদ (৫২), জাবেদ (২৫), নাঈম প্রকাশ (৩২), ইমরান, আরিফুল হক ফাহিম (৪০), মো মোতাহার হোসেন (৫০), মো. জালাল উদ্দিন (৪০), সাফায়েত আলম সানী (৪০), জামির হোসেন রনি (৪০), মো. কায়কোবাদ রুবেল (৪২), আলী হায়দার সাগর (৪৭), মো. রিফাত (২৮), মো. সাহাদাত হোসেন (৩২), মেহেদী দর্জি (৩৪), খোরশেদ আলম অপু (৩৬), মো. সোহেল সরকার (৩৫) সহ অজ্ঞাত ৩০ জন।
আর এই মামলার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যেন কোনো স্বস্তি নেই। শহরের বিভিন্ন জায়গাতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।
সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো আওযামী লীগ। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। সেই সাথে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আর এই নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেখা পেলেই গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে।
























-20260603135648.jpg)









আপনার মতামত লিখুন :