News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

বন্দরে সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যার ৬ বছর : আসামীর আত্মহনন অপরের খালাস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম বন্দরে সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যার ৬ বছর : আসামীর আত্মহনন অপরের খালাস

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যাকান্ডের ৬ বছর অতিবাহিত হলেও ন্যায়বিচার বঞ্চিত রয়ে গেছে দাবি মামলার বাদির। আলোচিত ওই হত্যাকান্ডের পরে ৮ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হলেও ৬ জনকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর প্রধান আসামী কারাগারে আত্মহনন করে। সম্প্রতি আদালত মামলাটির রায়ে অপর আসামীকে খালাস ঘোষণা করে।    

জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর রাতে বাসায় যাওয়ার পথে উপজেলার আদমপুর এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক ইলিয়াসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিহত ইলিয়াস স্থানীয় দৈনিক বিজয় পত্রিকার বন্দর সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতো। ওই রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তুষারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে সময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়। পরে ভোরে জিওধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিন্নাত আলী ও মিসির আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত ইলিয়াসের স্ত্রী ৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয় গ্রেপ্তারকৃত তুষার (২৮), মিন্নাত আলী (৬০) ও মিসির আলীকে (৫৩)। আর পলাতক ছিলেন হাসনাত আহমেদ তুর্জয় (২৪), মাসুদ (৩৬), সাগর (২৬), পাভেল (২৫) ও হযরত আলী (৫০)।

২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবীরের আদালতে গ্রেফতারকৃত তুষারে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার পরিদর্শক আজগর হোসেন বলেন, আদালতে তুষার সাংবাদিক ইলিয়াসকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন। আমাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুষার জানিয়েছেন, পুঞ্জিভূত ক্ষোভ থেকে তিনি ইলিয়াসকে হত্যা করেন। একই এলাকায় পাশাপাশি বসবাস ছিল সাংবাদিক ইলিয়াস ও তুষারদের। ২০১৮ সালে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় শামীম নামে এক যুবকের সঙ্গে তুষারের ঝগড়া হয়। ওই সময় তুষার লাঠি দিয়ে শামীমের মাথায় আঘাত করলে গুরুতর আহত হন শামীম। এ ঘটনায় তুষারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন শামীম। আর সেই মামলা করতে সাংবাদিক ইলিয়াস উস্কানি দিয়েছিলেন বলে ধারণা তুষারের। এছাড়াও এলাকায় অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ দেওয়ার টাকা নিয়ে তুষার, ইলিয়াস, মাসুদসহ আরো কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এসবের জের ধরেই সাংবাদিক ইলিয়াসকে হত্যা করা হয়।

সাংবাদিক ও নিহত পরিবারের দাবির মুখে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) মামলাটি স্থানান্তর করা হয়। ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর বন্দরে সাংবাদিক ইলিয়াস শেখ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং দ্রæতবিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এদিকে হত্যাকান্ডের পরপরই আসামীপক্ষের লোকজন ইলিয়াসের পরিবার ও স্বজনদের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরপর ৮ আসামীর মধ্যে ৬ আসামীকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

২০২৪ সালের ২০ ফেব্রæয়ারী নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার আদমপুর এলাকায় সাংবাদিক ইলিয়াসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামী তুষার আত্মহত্যা করেছে। সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে তুষার। পরে কারারক্ষীরা টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তুষারের মৃত্যু হয়।

তৎকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপার মোঃ মোকাম্মেল হোসেন জানান, বন্দরের সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যা মামলার আসামী ছিল তুষার। সে বেশ কিছুদিন ধরেই নামাজ পড়ছিল এমনকি তাহাজ্জুদের নামাজও পড়তো বলে অন্যান্য বন্দীদের সূত্রে জানা গেছে। সাংবাদিক ইলিয়াছ হত্যা মামলাটির বিচার কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছিল। যে কারণে সে বিচলিত ছিল। সে তার মা ও স্ত্রীসহ তার পাশে থাকা অপরাপর বন্দীদের কাছেও মাফ চেয়েছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে সে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে সেল থেকে বের হয়। নারায়ণগঞ্জ কারাগারে একটি ৬ তলা ভবন রয়েছে যেটাতে ৪ তলা পর্যন্ত বন্দীরা থাকে। এর উপরে কোন বন্দী রাখা হয়না। সন্ধ্যার পরে কারারক্ষীরা যখন সকল বন্দীদেরকে তাদের কক্ষে ফেরাতে ব্যস্ত তখন সকলের অলক্ষ্যে তুষার সেখানে গলায় গামছা দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তার গোঙ্গানী শুনে কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রæত নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে নিহত ইলিয়াসের স্ত্রী জুলেখা বেগম বলেন, ইলিয়াস নিহতের পরে অর্থকষ্টে আমি সন্তানদের নিয়ে ব্রা²ণবাড়িয়ায় বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম। আসামী পক্ষের লোকজনের সাথে ক্ষমতাসীন দলের বড় বড় নেতাদের হাত আছে। তারা প্রশাসনসহ সব জায়গা ম্যানেজ করে নিয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৮ আসামীর মধ্যে ৬ জনকে বাদ দিয়ে চার্জশীট দাখিল করেছিল। অর্থের অভাবে ও অসুস্থতার কারণে মামলা পরিচালনাও করতে পারছিলাম না। যে কারণে আমি আর নারাজী দেইনি। পরে মামলার চার্জশীটভুক্ত প্রধান আসামী জেলা কারাগারে আত্মহত্যা করে। সম্প্রতি অপর আসামীকে আদালত খালাস প্রদান করেছে।