নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজী করা হচ্ছে। বিএনপির নামধারী একটি মহল বিভিন্ন পয়েন্টে জায়গা ভাগ করে এসব চাঁদার টাকা উঠাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে এ চাঁদার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ঈদের আগে উচ্ছেদ হবে না মর্মে জানিয়ে হকারদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা।
বেশ কয়েকজন হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা বিগত দিনে চাঁদা দিয়েই এসব দোকান পরিচালিত হতো। চাঁদার টাকার পরিমাণে ভিন্নতা ছিল। যারা শরবত বিক্রি করেন তাদের দিতে হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা। যারা ডিম বিক্রি করেন তাদের দিতে হয় ১০০-২০০ টাকা। চটপটি দোকানিকে ২০০ টাকা, যারা বড় করে জামা-কাপড়, জুতা, ইলেক্ট্রনিক্স দোকান, মোবাইল এক্সেসরিজ, ফলের দোকান তাদের দিতে হয় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
হকারদের দাবি, এ চাঁদা যায় বেশ কয়েকজন হকার নেতা ও রাজনৈতিক নেতার পকেটে। এছাড়াও ফুটপাথ ঘেঁষে ভ্যানগাড়ি নিয়েও ভাসমান দোকান বসিয়ে হকাররা ব্যবসা পরিচালনা করে যাদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়।
হকারদের একাধিক সূত্র জানান, চাষাঢ়া হতে কালীরবাজার মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ৮টি পয়েন্ট ভাগ করে দেওয়া আছে। এসব পয়েন্ট হতে বিভিন্নস্তরের বিএনপি নেতাদের নামে টাকা উঠে। কালীরবাজার পুরাতন কোর্ট সড়কের হকারদের নিয়ন্ত্রন করে দুই। কালীরবাজার ওষুধের দোকানের সামনের দোকান নিয়ন্ত্রন করেন তিনজন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব হতে দুই নং গেট ও ১নং গেট পর্যন্ত সড়ক ৪ জন ও ডিআইটিতে সড়কের ফুটপাত নিয়ন্ত্রন করেন ৪ জন।
হকারদের সূত্রে জানা গেছে, জীবন বীমা করপোরেশনের সামনে থেকে সাধু পৌলের গির্জা হয়ে সাবেক গ্রীন্ডলেজ (স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) ব্যাংক মোড় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখলকারী হকার ছিল অন্তত পাঁচ শতাধিক। এসব হকারদের কাছ থেকে আকার ভেদে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
এদিকে ৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় হকার সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, ২০০১ সালে হকারদের জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গা আমরা বরাদ্দ দিয়েছিলাম। সেই জায়গায় যারা বরাদ্দ পেয়েছিল তারা আসলেই এখনো আছে কিনা, না থাকলে তাদেরকে কেন আমরা রাখবো, এই বিষয়ে সমাধানে আসতে হবে। শুধু হকার সমস্যা না, এখানে চাঁদাবাজিও চলছে। হকাররা যারা বসে, তারা এই চাঁদাটা দিয়েই বসে। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে কেউ না কেউ আছে তারা সাপোর্ট আর নিরাপত্তা দিচ্ছে। এই গ্রুপটাকে খুঁজে বের করতে হবে।”




































আপনার মতামত লিখুন :