নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে ২ঘণ্টা আটকে রাখার পাঁচ দিনেও থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি। যদিও ঘটনার পরপরেই এনসিপি থেকে জানানো হয়েছিলো এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা হয়নি থানায়। এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে জনমনে।
গত ৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় জামায়াতের ইফতার মাহফিলে যোগদেন এমপি আল আমিন। সেখানে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে উপস্থিত থাকতে দেখে স্টেজে বসা থেকে বিরত থাকেন। তাকে বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‘আমি স্টেজে বসতে পারছি না কারন ফ্যাসিস্টের দোসরের পাশে আমার বসা সম্ভব না।’
এই বক্তব্যের পরপরেই হাতেম স্টেজ থেকে উঠে যায় এবং তার অনুসারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে বেরিয়ে যায়। ইফতারের পর ভবনটির নিচে জড়ো হয় হাতেমের অনুসারী ও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল এবং তার অনুসারীরা। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় ও বিক্ষোভ করতে থাকে। গণমাধ্যমের সামনে এমপিকে হাতেমের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবী জানায়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সেখানে থাকা এনসিপির নেতাকর্মীদের মারধর করে রাসেল ও তার অনুসারীরা। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রায় ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন ও তার নেতাকর্মীদের বের করে নিয়ে আসে। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এনসিপির কার্যালয়ে পৌছে দিয়ে যায়। ঘটনার বর্ননা দিয়ে এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জামায়াতের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু জানতাম না যে সেখানে হাতেম থাকবে। তাকে দেখে আমি স্টেজে বসতে অস্বীকৃতি জানাই। আমি বলেছি, ফ্যাসিস্টের দোসরের পাশে আমি বসতে পারবো না। এই কথা বলার পরেই সে বেরিয়ে যায় এবং তার লোকজনকে ডেকে এনে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। আমি ডিসি এসপিকে জানানোর পরে তারা ফোর্স পাঠায়। ততক্ষনে আমরা দেখেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে এবং আমার কর্মীদের মারধর করতে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই।
এই ঘটনার পরদিন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিনঅঞ্চল) শওকত আলী বলেন, আমরা এই ঘটনায় মামলা দায়ের করবো। এমপিকে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি আমাদের নেতাকর্মিদের মারধর করা হয়েছে। এতে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থার দিকে যাবে এনসিপি।
তবে পাঁচদিনেও মামলা দায়ের হয়নি থানায়। এই বিষয়ে এনসিপির ফতুল্লা থানার এক নেতা বলেন, ‘আমরা থানায় এজাহার জমে দিয়ে এসেছি। বিষয়টি পেন্ডিং আছে। মামলা এখনও থানায় গ্রহণ করা হয়নি। আমরা শুনতে পাচ্ছি যারা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছিলো তারাও মামলা দায়ের করতে চাচ্ছে। এখন আমরা থানা পুলিশের দিকে তাকিয়ে আছি। তারা যতক্ষণ মামলা না নিচ্ছে ততক্ষন অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। আমরা ধৈর্য্য ধারণ করছি এবং দেখছি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঠিক কি ভূমিকা নেয়।’





































আপনার মতামত লিখুন :