News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

এসপিতে স্বস্তি, ওসিতে অস্বস্তি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম এসপিতে স্বস্তি, ওসিতে অস্বস্তি

নারায়ণগঞ্জ জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান যোগদানের পর মাদক ও অপরাধ দমনে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিদিনই জেলাজুড়ে চলছে বিশেষ অভিযান। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও অংশ নিচ্ছে অভিযানে। কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করছেন নগরবাসী। রাজনৈতিক অঙ্গণেও এসপির এমন তৎপরতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। 

নতুন এসপির কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং বিরোধী দলের ভুমিকায় থাকা জামায়াত এবং এনসিপিকে। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ন অঞ্চল ফতুল্লা থানায়। এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক উভয় পক্ষের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ফতুল্লার বক্তাবলীতে এনসিপির জেলার সহ সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর পক্ষে থানায় মামলা করতে থানায় গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে অনাগ্রহ দেখায়। খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন ঢাকা থেকে রাতেই ছুটে আসেন থানায়। সেখানে পুলিশের ওসির রুমে প্রবেশ করে নিজে উপস্থিত থেকে এজাহার দায়ের করান। যা পরবর্তীতে মামলা হিসেবে রুজু হয়। তবে মামলা হওয়ার পরও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ রয়েছে এনসিপির নেতাকর্মীদের মাঝে। 

এই ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুকে নিয়ে ওসি মাহবুবের একটি রাজনৈতিক বক্তব্যও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপির ওই নেতার প্রশংসা করে ওসির বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের নিরপেক্ষ ভ‚মিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে সরকারের পুলিশ প্রশাসনকে লক্ষ্য করে সমালোচনা শুরু হয়। যা নিয়ে খোদ সরকারি দলই বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখী হয়েছে। 

তার এই বক্তব্যে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। তারা বলছেন, ‘থানার ওসি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তার ভ‚মিকা হবে নিরপেক্ষ।  কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতাকে যেভাবে প্রশংসায় ভাসালেন তাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষ ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকজনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই ধরণের বক্তব্য আওয়ামী লীগের সময়ে প্রশাসনের দলীয়করণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫ আগস্টের পূর্বে ওসি যেখানে কর্মরত ছিলেন সেখানেও নিজেকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করতেন সকলের সামনে। তার বিরুদ্ধে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারের সামনে ছবি তোলা। আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে রাজনৈতিক কর্মীর মত দাঁড়িয়ে ছবি তোলা এবং সেসব প্রচার করে নিজেকে আওয়ামী ঘনিষ্ট প্রমাণ করতেন। একই ভাবে ফতুল্লা থানা এসে নিজেকে বিএনপি ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত করতে মরিয়া তিনি। যেই কারণে একজন থানা বিএনপির সভাপতির স্তুতি গাইতেও দ্বিধাবোধ করেননি।

ওসির ওই বক্তব্য নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রকাশ্যে তেমন কোনো সমর্থন দেখা যায়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই বিব্রত বলে জানা গেছে। 

একদিকে নতুন এসপি হাবিবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা দেখে আশাবাদী হয়েছেন এই নগরীর মানুষ। অন্যদিকে অন্যদিকে ফতুল্লা থানার ওসিকে ঘিরে বিতর্কে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার ইতিবাচক কর্মকাÐের সুফল যেন মাঠপর্যায়ের বিতর্কিত কর্মকাÐে ¤øান না হয়, সেই প্রত্যাশা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের। 

বিশ্লেষকদের মতে, এসপির নেতৃত্বে পুলিশের চলমান অভিযান যেন অব্যহত থাকে এবং কোনভাবেই কোন রাজনৈতিক চাপের মুখে অপরাধীদের ছাড় না দেয়া হয়। সেই সাথে এসপির অধিনে থানা থানাগুলোতেও পুলিশের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে দায়িত্বশীল এবং নিরপেক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা থাকবে এবং মানুষকে সেবা নিশ্চিত করবে এমনটাই চাওয়া সকলের।