News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সিদ্ধিরগঞ্জের পানির জন্য কারবালা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১০:২০ পিএম সিদ্ধিরগঞ্জের পানির জন্য কারবালা

তীব্র গরমের মধ্যে টানা কয়েক দিন ধরে পানির সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। সরকারি পানির পাম্প বিকল হওয়ার পর কয়েকদিন ধরে পানি না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন এলাকাবাসী। সংকট নিরসনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানির গাড়ি সরবরাহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর মধ্যেই রোববার পানির দাবিতে শিমরাইল-আদমজী-চাষাঢ়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্পটি বিকল হওয়ার পর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে দূরবর্তী এলাকা থেকে কলসি, বালতি কিংবা বিভিন্ন পাত্রে করে পানি এনে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা।

পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে রোববার সড়কে নেমে অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিক্ষোভকারীরা দ্রæত পাম্প মেরামত করে পানি সরবরাহ চালুর দাবি জানান। এর আগে গত কয়েক দিন ধরেই পাম্পটি অচল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের দাবি, পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পরপরই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। এখন ১৫ দিন পর্যন্ত সংস্কারকাজ চলবে বলে জানানোয় দীর্ঘ সময় পানিহীন থাকার আশঙ্কায় আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা।

আকলিমা আক্তার নামের ৮নং ওয়ার্ডের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পাম্প স্টেশনের পাশে আমার বাড়ি হলেও আমরাই পানি পাই না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা পানির সংকটে ভুগছি। গত কয়েকদিন ধরে এই পানির সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানির অভাবে ছেলেমেয়ে ঠিকমতো গোছল করতে পারছে না। খাওয়ার জন্য পানি কিনতে হচ্ছে। এভাবে নিজেরা কোনোমতে চলতে পারলেও ভাড়াটিয়া কিভাবে চলবে? একটি পরিবারের দৈনন্দিন অনেক পানির প্রয়োজন হয়। এতো পানি কি কেনা সম্ভব হয় নাকি। এতো অর্থ পাবো কই? মাঝেমধ্যে রাত তিনটার দিকেও আশায় থাকি কলে পানি পাবো। কিন্তু ওই সময়েও দিনের মতো অবস্থা থাকে। এতো রাতেও যদি পানি না পাই তাহলে কি আর করার।

সাব্বির আলম নামের আরেক বাসিন্দা জানান, এই সমস্যা নিয়ে আমরা অনেক প্রতিবাদ করলেও কর্তৃপক্ষ আজও পর্যন্ত এর স্থায়ী সমাধান করেননি। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান করবে তাও জানা নেই। এদিকে পানির অভাবে আমাদের জীবন এখন কষ্টে জরাজীর্ণ হয়ে উঠেছে। পানির জন্য এখন টানাটানি চলছে। পানি না থাকায় অনেক ভাড়াটিয়া বাড়ি ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে। এতে করে বাড়ির মালিকরা ভাড়া দিতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।  

আলমগীর হোসেন নামের আরেক স্থায়ী বাসিন্দ জানান, পানির সমস্যা নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলার নেই। মাঝেমধ্যে পানি পাওয়া গেলেও অধিকাংশ সময় আমাদের এলাকায় পানি পাওয়া যায় না। পানির অভাবে খুব দুর্দশায় জীবনযাপন করছি।

আন্দোলনরত একাধিক ব্যক্তি জানান, গরমের সময় পানির ব্যবহার এমনিতেই বেড়ে যায়। এ সময়ে একটি বড় এলাকার সরকারি পানির পাম্প বিকল হওয়ায় দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানির গাড়ি দেওয়া হলেও একটি গাড়ির পানি শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।

ওই ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, গত ৮ দিন ধরেই আমাদের ওয়ার্ডটিতে পানির সমস্যা চলছে। পাম্প সচল করার কাজ চলমান রয়েছে। আমি নিজেও কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়েছিলাম। পাম্প পুরোপুরি সচল হতে কম করে হলেও ৮-৯দিন সময় লাগবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের জানান, পাম্পটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। ক্যামেরার মাধ্যমে টিউবওয়েলের ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এর হাউজিং পাইপ ফেটে গেছে। টিউবওয়েলের প্রায় ৪০০ ফুট অংশ পাথর ও বালিতে ভরে গেছে। এ কারণে সাধারণভাবে মেরামত করে দ্রæত পানি সরবরাহ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি জানান, সমস্যাটি সমাধানে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ একটি টিম আনা হচ্ছে। টিউবওয়েলের ভেতরে জমে থাকা বালি পরিষ্কার করার পর ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ খুলে নতুন পাইপ বসানো হবে। পুরো কাজটি অনেকটা নতুন করে টিউবওয়েল সংস্কারের মতো। এতে সর্বনি¤œ ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। কাজের ধরন অনুযায়ী ব্যয় হতে পারে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।

তবে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি পানির গাড়ি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ করছে। যেসব স্থানে চাহিদা বেশি, সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার দিয়ে গাড়ি পাঠানো হচ্ছে।