নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনির বউবাজার এলাকায় ডাকাত হিসেবে পরিচিত নাম সাহেব আলী। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টি মামলা রয়েছে। একাধিকবার তাঁকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালানো হয়েছে। এমনকি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে র্যাব ও পুলিশের সদস্যদের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বারবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে এলাকায় পুনরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতো। শেষ পর্যন্ত নিজের সহযোগিদের গুলিতেই প্রাণ গেল তাঁর।
সোমবার বিকেলে সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনি এলাকার ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন সাহেব আলী। তখন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাহেব আলীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় রনি ও আসলাম নামে দুজনের নাম উঠে এসেছে। রনি খুব কাছ থেকে তাঁর মাথা লক্ষ্য করে গুলি করেন। পরে তিনি পাশের একটি খালে পড়ে গেলে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও গুলি ছোড়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি, নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও নাশকতার তিনটি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাঁচটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ছদ্মবেশে ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে।
এতগুলো মামলা থাকার পরও তাঁকে ঘিরে অপরাধের অভিযোগ থামেনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাধার মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সাহেব আলীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও উদ্বেগ ছিল।
সাহেব আলীকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে। সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনির বউবাজার এলাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় র্যাবের একটি দল। সে সময় তাঁকে আটক করা হলেও তাঁর সহযোগীদের হামলায় র্যাব সদস্যসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
এরপর একই বছরের অক্টোবরে র্যাব-১১ ও র্যাব-৯-এর যৌথ অভিযানে সুনামগঞ্জ থেকে সাহেব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলার তথ্য সামনে আসে। তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব।
চলতি বছরের ১৫ আগস্ট আবারও আলোচনায় আসেন সাহেব আলী। সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনি এলাকায় চুরি যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধারে গিয়ে পুলিশের তিন সদস্য হামলার শিকার হন। মামলার এজাহারে সাহেব আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা এবং পুলিশের সরকারি সরঞ্জাম ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় তাঁকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব অভিযানের পরও তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও স্থানীয় অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এবার গুলিতে তাঁর মৃত্যুর পর সেই অতীত ঘটনাগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। সাহেব আলীর ছেলে সজিবের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বাবার নাম ব্যবহার করে স্থানীয় কয়েকজন বালুর ব্যবসায় চাঁদাবাজি করতেন। এ নিয়ে বিরোধ ছিল তাদের।
এদিকে সাহেব আলীর মৃত্যুর খবরে স্বস্থি কাজ করছে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর মধ্যে। তবে যারা সাহেব আলীকে খুন করেছেন অতি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তা না হলে নতুন করে আরও সন্ত্রাসী সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা করছেন তারা।


























-20261014113949.jpg)









আপনার মতামত লিখুন :