বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিট কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটে ফিরেছে ভোট। তবে ভোট ফিরলেও প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের যেন ভোটে ভয় রয়েছে। যাদের মধ্যে অনেকেই দাপুটে প্রার্থী। কিন্তু তারাও যেন ভোটে ভয় পাচ্ছেন। ফলে নিজেদের প্যানেলের প্রার্থীদের জয়ী করা জন্য আগে থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। সেই সাথে অনেকে প্রতিদ্ব›দ্বীতা থেকে সরেও এসেছেন।
জানা যায়, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে একজন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন সাধারণ সম্পাদক ও পাঁচজন সদস্য নির্বাচিত হবেন। ১৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সদস্য পদে আবুল কালাম আজাদের মনোনয়নপত্র ত্রæটির কারণে বাতিল হয়েছে।
এর আগে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি ও সদস্য পদে মোট ২৪টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিলো। যেখানে একজন সহ-সভাপতি (ভাইস চেয়ারম্যান) পদের বিপরীতে ৬ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন, অ্যাডভোকেট নবী হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করীম খান রেজা, মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জিএম হায়দার আলী, প্রফেসর ডা. জাহাঙ্গীর ও নিরব রায়হান।
সেই সাথে সেক্রেটারি পদে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন পাঁচজন। তাঁরা হলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা, আবু আল ইউসুফ খান টিপু, ডা. জাহাঙ্গীর, আমিনুর ইসলাম মিঠু ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
একই সাথে সদস্য পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১৩ জন। তাঁরা হলেন আমিনুর রহমান মিঠু, হারুনুর রশীদ খান, নাজমুল হক, আবুল কালাম আজাদ, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সরকার হুমায়ুন কবির, রেজাউল করীম খান রেজা, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, নিরব রায়হান, ইফতেখার আহমেদ জিমু, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ও মেহেদী হাসান সজীব।
তাদের মধ্যে থেকে ১৭ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন। জমা না দেয়া সকলকেই কোনো না কোনো ভাবে হুমকি কিংবা জোর করে বসিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে যাছাই বাছাইয়ে আরেকজনের মনোনয়ন পত্র বাতিল হওয়ার মধ্য দিয়ে ১৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়াদের মধ্য থেকে অ্যাডভোকেট নবী হোসেন ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এই প্যানেল থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নবী হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে টিপু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সেই সাথে প্যানেলের পাঁচ সদস্য প্রার্থী হলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন ও ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সদস্য সরকার হুমায়ুন কবির, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এবং নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সাবেক আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
প্যানেলের বাইরে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যবসায়ী জি এম হায়দার আলী। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান ও বিএনপি নেতা আমিনুর ইসলাম মিঠু। সেই সাথে সদস্য পদে রয়েছেন মেহেদী হাসান সজীব, নিরব রায়হান, হারুনুর রশীদ খান ও নাজমুল হক, ইফতেখার আহমেদ জিমু। এই সদস্যদের মধ্যে থেকেও অনেক নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টায় রয়েছে প্যানেল ঘোষণা দেয়া দাপুটে প্রার্থীরা।
বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্যানেল থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অ্যাডভোকেট নবী হোসেন বেশ প্রভাবশালী প্রার্থী। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। কিন্তু তারপরও যেন তিনি ভোটে ভয় পাচ্ছেন। ফলে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীদের ভোট থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত তার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে থাকবে কিনা বেশ সংশয় রয়েছে।
প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা রয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। তার সাথে প্রায় সকল পর্যায়ের মানুষেরই সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার রয়েছে অনেক নেতাকর্মী। কিন্তু তারপরও তিনি যেন ভোটে ভয় পাচ্ছেন। ফলে তার বিপরীতে থাকা প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সদস্য পদে থাকা মাকছুদুল আলম খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরশনের একজন জনপ্রিয় কাউন্সিলর। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সকল নির্বাচনেই তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আসছেন। তার জীবনে পরাজয়ের রেকর্ড নেই। একই সাথে তিনি বিভিন্ন সমাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত রয়েছেন। সবমিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের সর্ব মহলেই তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।
সদস্য পদে থাকা ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপনও বেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির একজন জনপ্রিয় নেতা। বিভিন্ন মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। বিভিন্ন মহলে তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
কিন্তু মাকছুদুল আলম খোরশেদ, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন ও রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর মতো নেতা থাকতেও যেন প্যানেল ঘোষণা দেয়া নেতারা ভোটকে ভয় পাচ্ছেন। তারা ভোটের লড়াইয়ে নামতেই চাচ্ছেন না। প্রতিদ্ব›দ্বীতায় থাকা প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে দেন দরবার চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার কাউকে কাউকে চাপ প্রয়োগও করছেন।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত সময়ে কখনও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই সাথে বিগত সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সহ সামাজিক সংগঠনের নেতাদের এরকম আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি। যদিও বিগত সময়ে দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ। আর এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় অনেক সংগঠনেই নির্বাচন হতো না। নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও এটাকে নানাভাবে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হতো। এবার বিএনপি সরকারের সময়েও নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।







































আপনার মতামত লিখুন :