News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যায় মূলহোতাসহ তিনজন গ্রেফতার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যায় মূলহোতাসহ তিনজন গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামতলায় বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূলহোতা জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি টিফিন বক্সও উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে বন্দর থানার সেল সাবদী এলাকা থেকে মূল আসামি জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মো. মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। তিনি মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে মাসদাইর রোকেয়া স্কুল সংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯) নামে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফতুল্লা মডেল থানার এসআই কাজী শামীম ও এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বন্দর থানার সেল সাবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকিরকে গ্রেফতার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যার দায় স্বীকার করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকে তিনি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব হোসেন হেঁটে আসলে কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ভোরের দিকে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাসদাইর এলাকার জিন্নাহর ছেলে জাকির (৫০), রানার ছেলে ওমর ফারুক (২২) এবং মৃত মজিদ মিয়ার ছেলে সোহেল (৪৯)।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।