News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

গডফাদার বোরকা শেষে জানোয়ার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ১০:১১ পিএম গডফাদার বোরকা শেষে জানোয়ার

শামীম ওসমান। কারও কাছে পরিচিত গডফাদার হিসেবে। আবার কারও কাছে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে। তবে, ক্ষমতায় থাকতে তাকে অনেকেই ‘সিংহ পুরুষ’ হিসেবে অবহিত করতেন। দুর্দান্ত প্রভাবশালী এ ব্যক্তি ১৯৭৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকার সময় জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জে প্রবেশকালে তার গাড়িবহর আটকে দিয়ে আলোচনায় আসেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন যা তিনি অনেকটা গর্ব করে বলতেন, আমি জিয়াউর রহমানকে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করতে দিইনি। তার গাড়ির পতাকাও ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। একইভাবে গোলাম আজমকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেও রাজনীতি মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি।

১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এমপি নির্বাচিত হলে শামীম ওসমানের নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেন। শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে উচ্ছেদ করা হয় নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত টানবাজার পতিতালয়। যা সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু উচ্ছেদের পর পতিতাদের পুনর্বাসন না করায় অনেকে সমালোচনাও হয় তার বিরুদ্ধে।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জের দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে উঠেন। তার অঙ্গুলি হেলনে চলত পুরো নারায়ণগঞ্জ। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখল, প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদদের ঘায়েল করে কটাক্ষ বক্তব্য, প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখাসহ সব কর্মকান্ড চলত একক ইশারায়। একপর্যায়ে আলোচিত দোর্দান্ড প্রতাবের এ নেতার কপালে জোটে গডফাদারের খেতাব। প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ ২০-২৫টি প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে মহড়া দেওয়া ছিল তার প্রায় প্রতিদিনের রুটিন।

তবে, ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রভাবশালী এ নেতা জিততে পারেননি। জোটপ্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের কাছে ধরা খেয়ে রাতের আঁধারে বোরকা পড়ে পালিয়ে যান শামীম ওসমান। তখন প্রথমে ভারত ও পরে কানাডায় আশ্রয় নেন তিনি। বোরকা পরে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তখন দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় তোলে। একই স্টাইলে ২০২৪ সালের ৩ আগষ্ট আবারো নারায়ণগঞ্জে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে ‘বোরকা শামীম’ নাম লিখে ব্যানার টানিয়ে দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা। এ ব্যানার নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়।

প্রায় ২৩ মাস কাছাকাছি সময়ে শামীম ওসমান ‘জানোয়ার’ উপাধী দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল। তিনি ৩০ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর হাসপাতাল রোডে ‘সুস্থ ধারার রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে একথা বলেন।

মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম ‎‎সজল বলেন, নারায়ণগঞ্জে কিন্তু আপনারা জানেন সিংহ পুরুষ নামে থাকা জানোয়ারের জম্ম হয়েছিল। সেই জানোয়ার কিন্তু জঙ্গলে থাকার কথা, কিন্তু সেই জানোয়ার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সে পালিয়েছে তার নেত্রীও পালিয়েছে এবং তার নেতাকর্মীরাও পালিয়েছে। তাই বলতে চাই আমরা কিন্তু রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করে নেতৃত্ব দিয়েছি।

অন্যদিকে একই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ বক্তব্যে শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, নিকৃষ্ট একজন সন্ত্রাসী ছিলো তার নাম বলতে চাই না। যে নাকি তার সন্তানের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়, সেই ওসমান পরিবারের ভবিষ্যত কান্ডারী অয়ন ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে এখানে এসে আমার বসা জায়গা ভাংচুর এবং বাসায় গুলি করে। ওই সময়ে কোন মিডিয়া সংবাদ প্রচার করেনি। হাতেগোনা কয়েকটি মিডিয়া প্রকাশ করলেও তাদের বন্ধ করে দেয়া হয়।