News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বেপরোয়া ইকবালকে থামাবে কে?


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম বেপরোয়া ইকবালকে থামাবে কে?

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন যেন কোনোভাবেই থামছেন না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি অনেক বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। তার এলাকায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দ্বারা নিজ দলীয় নেতাকর্মীরাও ভুক্তভোগী হচ্ছেন। কাউকেই তিনি ছাড়ছেন না। কোনোভাবেই তাকে যেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দলীয় নির্দেশনা থেকে শুরু করে কোনো কিছুকেই তিনি উপেক্ষা করছেন না। নিজের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য যাকে যেভাবে হুমকি ধমকি নির্যাতন নীপিড়ন করার দরকার সেভাবেই তিনি তা করে যাচ্ছেন। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার ভয়ে ভুক্তভোগীরা নিরব ভূমিকায় থাকেন।

সবশেষ ইকবাল হোসেন সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাসিকের ওয়ার্ড সচিব মো. মেহেদী হাসান সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ এপ্রিল সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের ভাই তুহিনকে সচিবের পদ থেকে অপসারণ করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ইকবাল হোসেন ও তার অনুসারীরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ইকবাল হোসেনের নির্দেশে মুক্তার, সোলাইমান পলাশ, সাইফুল, নাজমুল, জসিম, টুটুল, জহিরুল, সেলিম, ইয়াসিন, জিসান ও জাহিদ ওরফে মাইচ্ছা জাহিদ সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিটি করপোরেশনের ল্যাম্পপোস্ট মেরামতের কাজে বাধা দেয়।

পরবর্তীতে তারা মেহেদী হাসানের বাসায় অনধিকার প্রবেশ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মেহেদীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় মেহেদীর চিৎকারে তার পরিবার ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর প্রথম আলোচনায় আসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। তিনি নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকের গাঁয়ে হাত তুলেছেন।

জানা যায়, সেবার আসিয়ান পরিবহণের একটি বাসে চালকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় ইকবালের। পরে বাসটি নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় গেলে ইকবালের অনুসারীরা বাসচালককে মারধর ও বাসে ভাঙচুর চালায়। সাংবাদিক মিনহাজ আমান বাস ভাঙার প্রতিবাদ করলে তাকেও লাঞ্ছিত করেন ইকবালের অনুসারীরা।

তার এই ঘটনার পরেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইকবাল হোসেনকে বহিস্কার করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছিলো, আজ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক মিনহাজ আমানকে মারধর ও লাঞ্ছিত করায় ইকবালকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে এসকল ঘটনার পর ইকবাল হোসেন নিজেকে শোধরাচ্ছেন না। বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হয়ে আবার বিএনপিতে ফিরে তিনি যেন আবারও বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। তাকে যেন থামানো যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে কথা সাহস পান না। সবকিছু নিরবেই সহ্য করে যান।