News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

বিএনপি সমালোচনায় জামায়াত আলোচনায়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম বিএনপি সমালোচনায় জামায়াত আলোচনায়

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীরা একের পর এক ঘটনায় সমালোচিত হচ্ছেন। আর তাদের বিপরীতে বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডরে মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা নানারকম নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কোনো রকম বাধা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পেয়ে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের গোছাতে শুরু করেছেন। তারা সুযোগটাকে বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন। প্রায় প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো কর্মসূচি কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিপরীতে বিএনপির বিতর্কই সঙ্গী হিসেবে রূপ নিয়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চেয়ে তারাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পঙ্গুত্ববরণ সহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মামলা হামলা তো বলারই অপেক্ষা থাকে না। পুলিশি রিমান্ডে গিয়ে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। আর এই সরকার পতনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য আসেন। সেই সাথে তারা বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছাতে থাকেন।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের নিহত ও আহতদের বাসায় বাসায় গিয়ে হাজির হতে থাকেন নারায়গঞ্জ জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন বাসায় বাসায় গিয়ে তারা নিরবেই আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। কারও কারও বেলায় সকল দায়িত্ব নেন জামায়াত ইসলাম। বিভিন্ন মেডিকেল সেবা নিয়েও তারা জনগণের দৌড়গোড়ায় যাচ্ছেন।

সবশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

মহানগরের ম্যাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত মহানগরী, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় ও স্মরণসভা। ১৭ জুলাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে যুবর‌্যালী। ১৮ থেকে ৩১ জুলাই থানা, ওয়ার্ডে জুলাই স্মৃতিচারণ, ডুকুমেন্টারী প্রদর্শন, আলোচনা সভা এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের দ্রæত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল। সেই সাথে থানা ভিত্তিক গণরায় বাস্তবায়নের দাবীতে গণসমাবেশ। ১ আগস্ট মহানগরীর উদ্যোগে গণমিছিল। ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক গংগঠনের উদ্যোগে গণসমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন। ৫ আগস্ট মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া এবং ছাত্রনেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৪ জুলাই ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে সমর্থন ও অংশগ্রহণ, ৫ থেকে ২০ জুলাই থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আলোচনা সভা, ১৩ জুলাই ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনার, ২৩ থেকে ২৫ জুলাই উপজেলা ও থানা পর্যায়ে জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী, ২৯ জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা, ১ আগস্ট উপজেলা ভিত্তিক গণমিছিল, ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিকদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ৫ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও মিছিলে সমর্থন ও অংশগ্রহণ।

এর আগে দীর্ঘ প্রায় কয়েক দশক পর নারায়ণগঞ্জে খোলা মাঠে কর্মী সম্মেলন করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামী। তার আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শহরের ইসদাইর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জনসভা করার পর তারা কর্মী সম্মেলনও করেছেন। গত ১৯ জুন সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

তাদের বিপরীতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা নানা কর্মকাÐেই বিতর্কিত হয়ে পড়ছেন। মূলদল থেকে শুরু করে তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনে কোথাও যেন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা চাঁদাবাজি ও মারামারির একের পর এক ঘটনায় ইমেজ সংকটে ফেলে দিচ্ছে বিএনপিকে। নেতাকর্মীদের নানা বিতর্কিত ঘটনায় বিএনপির ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসের মধ্যেই বিএনপিকে জনগণের কাছে নেতিবাচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তুলছে। তারা নিজেরাই নিজেদের দলকে ইমেজ সংকটের দিকে ধাবিত করে তুলছেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরাই যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন। প্রতিনিয়তই নারায়ণগঞ্জের কোনো না কোনো এলাকায় কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতার খবর পাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নির্দেশনা দিয়েছেন একরকম কিন্তু অধস্তন নেতাকর্মীরা করছেন আরেকরকম।

এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা। যা দিন দিন বিএনপিকে বিতর্কিত করে তুলছে। বিএনপিকে সাধারণ মানুষের মাঝে সমালোচনার পাত্র হিসেবে পরিণত করছে।