ফতুল্লার চাঁদমারী মাউরাপট্টিতে ডিশ ব্যবসায়ী নাসির হোসেন হত্যা মামলার মূল আসামী শরীফের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতের খুজে বের করার দাবী তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন বছরের পর বছর ধরে শরীফ এলাকায় নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড করে চলেছে। কখনো আওয়ামী লীগ নেতা কখনো বিএনপির শেল্টার নিয়েছেন। এবারও তিনি ১৩ দিন আগে আত্মসমর্পন করলেও বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার শলা পরামর্শ গ্রহণ করেছেন জানা গেছে। এ নিয়ে চাঁদমারীতে নানা গুঞ্জন আছে।
৩০ জুন তাকে নাসির মামলায় আদালতে তোলা হয়। ৭ দিনের রিমান্ড চায় তদন্তকারী সংস্থা ডিবি। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। শরীফকে আদালতে হাজির করা হলে বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ দেখায়। তারা পুলিশের সামনেই শরীফকে আটকে মাটিতে ফেলে মারধর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, শরীফ একজন ভয়ঙ্কর খুনী। এছাড়া তিনি চাঁদমারী ও আশপাশ এলাকার একজন মাদকের মাফিয়া। গত ১৪ মে হত্যাকান্ডের শিকার হন ডিশ ব্যবসায়ী নাসির। হত্যার পর শরীফকে দৌঁড়ে পালাতে দেখা গেছে। মামলায় তিনি প্রধান আসামী। এর পর থেকেই আত্মগোপনে থাকেন।
সবশেষ ১৪ মে দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁদমারি এলাকায় নাসির হোসেন নামে এক ডিস ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত মো. নাসির হোসেন চাঁদমারি এলাকার বাসিন্দা সাফাজউদ্দিনের পুত্র। তিনি চাঁদমারি এলাকায় ডিস ও ইন্টারনেটের ব্যবসা করতেন। ওই মামলার প্রধান আসামী ছিলেন শরীফ। তিনি এলাকার একজন দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, স্থানীয় মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের চারদিকে দীর্ঘ বছর ধরে মাদকের হাট পরিচালনা করেছেন রুমী আক্তারের নেতৃত্ব তার স্বামী লেবু মিয়া, বাবা মুক্কা ও ছোট ভাই ফজল সহ একদল মাদক ব্যবসায়ী। চাঁদমারী সবুজবাগ এলাকা রুমীর বসবাস থাকলেও মাউরাপট্টি, মাইক্রোস্ট্যান্ড ও এসপি অফিসের সামনে মাদক বিক্রি প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এই নিয়ে টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন করা হয়। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পর একাধিক অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমান সরকার ক্ষমতা আসা পর ফের বেপরোয়া হয়ে উঠে রুমীর নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নাসির হোসেন। ইতোমধ্যে তাদেরকে এলাকায় বিক্রি না করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং নিজেই রুমীকে এমনকান্ডে নিষেধ করে ছিলেন তিনি। এমন সিদ্ধান্তে পরিবর্তনে নাসিরকে ম্যানেজ করার জন্য শরিফকে দায়িত্ব দেন রুমী। রুমী মাদক পরিচালনা থেকে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা নাসিরকে দেয়ার প্রস্তাব করেন শরিফ। এতে রুমী মাদক স্পট বন্ধ ও এসব থেকে সরে যেতে শরীফ পরামর্শ দেন নাসির। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার অফিসে ফাঁকা পেয়ে দরজা বন্ধ করে কুপিয়ে জখম করে হত্যা করা হয়।





































আপনার মতামত লিখুন :