শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে ভোলাইল পঞ্চবটি এলাকা পর্যন্ত পরিবহনে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়, ভূমিদস্যুতা, কিশোরগ্যাং নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন অপরাধে ঘুরে ফিরে একটি নামই উঠে আসে সাব্বির আহম্মেদ শহীদ। যে সর্বস্তরে ডাকাত শহীদ নামে পরিচিত। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে নিতাইগঞ্জের ট্রাক চালকেরা। এবার ডাকাত শহীদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠে নামবে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন- এমন খবর পাওয়া গেছে।
ডাকাত শহীদ নারায়ণগঞ্জ ট্যাংক লড়ি কার্ভাট ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হয়েছেন ৫ আগস্টের পর। এর পূর্বে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মী। ছিলেন প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের অন্যতম সহযোগী। ৫ আগস্টের পর আজমেরী ওসমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে ডাকাত শহীদ বনে যান বিএনপি নেতা।
তাকে নিতাইগঞ্জে ওই কমিটিতে অধিষ্ঠিত করেছেন মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি হাসান আহম্মেদ। তিনি ওই কমিটির সভাপতি। তবে হাসান আহম্মেদ শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তার সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা।
ডাকাত শহীদের এমন সন্ত্রাসী এবং অপকর্মের দায় নিবে না বিএনপি। এমন সিদ্ধান্ত থেকে ইতোমধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে আসফানা আফরোজ বিভাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তবে এই ডাকাত শহীদকে নিতাইগঞ্জে বহাল রাখতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে আফরোজা আক্তার বিভা।
শুধু নিতাইগঞ্জই নয় বাবুরাইল কাশীপুরের খিলমার্কেট, বাংলাবাজার হোসাইনি নগর, হাটখোলা, আম বাগান, চৌধুরীবাড়ি, শহীদনগর, গোগনগর, পাইকপাড়া, নামাপাড়া, শাসনগাঁও, ভোলাইল হয়ে পঞ্চবটি পর্যন্ত বিশাল এই এরিয়া জুড়ে মাদকের একছত্র নিয়ন্ত্রক সাব্বির হোসেন শহিদ। তার নিয়ন্ত্রিত বিশাল এই মাদকের সামাজ্যে হাত বাড়ালেই মিলে গাঁজা থেকে শুরু করে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও মদ। এসব মাদক দ্রব্যের পাইকারী বিক্রেতা সাব্বির হোসেন শহিদ।
শুধু মাদকের ডিলারশীপই নয় শহিদের মাধ্যমেই উল্লেখিত এলাকা গুলো জমি দখল, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় সহ ছিনতাই ডাকাতি সকল কিছুর নিয়ন্ত্রক এই শহিদ। উল্লেখিত এলাকাগুলোকে যদি অপরাধের স্বর্গরাজ্য বিবেচনা করা হয় তবে সেই রাজ্যের স্বঘোষিত সম্রাট হয়ে উঠেছে এই সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী শহিদ।
স্থানীয়রা জানান, এসব অঞ্চলগুলোতে শহিদের মাদক বিক্রির জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার লোক নিয়োগ প্রাপ্ত রয়েছে। যাদেরকে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার টাকা চুক্তিতে রাখা হয়েছে। তাঁতীপাড়া মোড় থেকে নাগবাড়ি মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন ল্যাম্পপোস্ট তারা সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করে স্পট গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। যাতে করে প্রশাসনের লোকদের ওইসব এলাকায় ঢুকতে দেখতে পেয়ে আগে থেকেই সর্তক হতে পারে।
শহিদের বাহিনীতে আরো সক্রিয় সদস্য হিসেবে রয়েছে সবুজ ও বাপ্পি চিশতি নামের আরো দুই সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সামনে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শহিদ বাহিনীর দুই গ্রুপের মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুলি বর্ষণের মত ঘটনাও ঘটে। গুলিতে শুভ নামের একটি গুরুতর আহত হওয়ার গুঞ্জন শোনা গেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শুভকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে শোনা গেছে। তবে এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
ওই সংঘর্ষের পর বিষয়টি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ডাকাত শহীদকে নিয়ে বিব্রত হয়েছেন। যদিও পরের দিন ডাকাত শহীদের পক্ষে মাদক বিরোধী মিছিল করে আগের দিনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বাপ্পি চিশতি।





































আপনার মতামত লিখুন :