ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে সৃষ্টি হওয়া তোলপাড় ও গুঞ্জনের অবসান ঘটেছে। একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন কিছুটা বিব্রত হলেও, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই মাটি কাটা সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম অনুসারে এবং পূর্বের জলাশয় ফিরিয়ে আনার জন্যই করা হচ্ছে।
এর আগে, মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম নেয়। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ভূত সমস্যা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র দেখতে বৃহস্পতিবার সকালে মাটি কাটার স্থান পরিদর্শনে আসেন সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভায়াডাক্টের নিচের মাটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী উপায়ে কাটা হচ্ছে না। বরং প্রকল্পের মূল চুক্তি অনুযায়ী পূর্বের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জলাশয় ফিরিয়ে আনতেই এই মাটি অপসারণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘মাটি কাটা হয়েছে এটি সত্য হলেও, যে প্রয়োজনে মাটি কাটা হয়েছে, বিষয়টি সেভাবে সংবাদে আসেনি। খবরে বলা হয়েছে, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় ভায়াডাক্টের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভায়াডাক্টটি যখন নির্মাণ করা হয়, তখন এই অঞ্চলটি মূলত জলাভ‚মির মতো ছিল। ভারী যন্ত্রাদি ও মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে পৃথিবীর সব দেশেই এ ধরনের মেগা প্রকল্পে অস্থায়ীভাবে কিছু মাটি ভরাট করে রাস্তা বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হয়। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই অস্থায়ী মাটি অপসারণ করে জমিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া চুক্তিরই একটি বাধ্যতামূলক অংশ।’
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সমস্ত বৈজ্ঞানিক হিসাব নিকাশ এবং কারিগরি দিক বিবেচনা করেই এই আধুনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে এর কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই, বরং ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং পানি ও জলরাশির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার স্বার্থেই বাকি অংশের মাটি দ্রæত অপসারণ করা জরুরি। তিনি জানান, ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী মাটি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটারের মতো অংশের কাজ বাকি রয়েছে, যা দ্রুত শেষ করা হবে।
ভায়াডাক্টের সর্বোচ্চ কাঠামোগত নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘এখানে ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। কারণ এর নিখুঁত ডিজাইনের সঙ্গে দেশি বিদেশি উচ্চ জ্ঞানসম্পন্ন প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা জড়িত আছেন। পুরো কাঠামো প্রকৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ নিরাপদ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজ বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রীর এই পরিদর্শনের পর এবং সুনির্দিষ্ট টেকনিক্যাল ব্যাখ্যার কারণে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে। তবে বাসিন্দারা বলছেন, এই ব্যাখ্যা আগে প্রকাশ করা হলে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হতো। এই ধরনের কাজের পুর্বে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে পরামর্শ করে নিলে এই উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।




































আপনার মতামত লিখুন :