দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত থাকা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে অবশেষে ঐক্যের আভাস মিলছে। বিদ্রোহী ও মূল কমিটিতে বিভক্ত হয়ে দুই ধারায় রাজনীতি করছিল দলটি। মাসুদুজ্জামান মাসুদ বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পরও এই বিভাজন কাটেনি বরং অভ্যন্তরীণ দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আবুল কালাম মনোনয়ন পাওয়ার পরপরেই পাল্টে গেছে চিত্র। এখন সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একই মঞ্চে অবস্থান করে চালিয়ে যাচ্ছেন রাজনীতি। যা ঐক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে দীর্ঘদিনের বিরতির পর।
বিভক্ত মহানগর বিএনপির নাটকীয় পরিবর্তন আসে যখন দলীয় সিদ্ধান্তে মাসুদের পরিবর্তে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর পরপরই ভেঙে যায় দীর্ঘদিনের বিভাজনের দেয়াল। মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী ও মূল কমিটির নেতারা এখন এক টেবিলে বসে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন। যা আশাবাদী করেছে নেতাকর্মীদের। বিভাজনের পুরোনো সেই দেয়াল আর টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী ন্য কেউই।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালামের নেতৃত্বকে ঘিরে মহানগর বিএনপির সব গ্রুপ একত্রিত হয়ে কাজ শুরু করেছে। অতীতের বিরোধ ভুলে সবাই এখন তার পাশে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি আরেকটি কারন হচ্ছে বিএনপির চেয়ারপার্সন, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়ান। যা শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রত্যয় নিয়ে এক হয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।
সূত্র বলছে, মহানগর বিএনপি সাধারণত দুই ব্লকে বিভক্ত ছিলো। পরবর্তীতে বিদ্রোহী গ্রুপ দুর্বল হয়ে পড়ে মূল কমিটির সামনে। তবে মাসুদুজ্জামান মাসুদ মনোনয়ন নিয়ে আসার পর বিদ্রোহী গ্রুপের সকলেই যুক্ত হয় তার সাথে। ধীরে ধীরে সাখাওয়াত ও কালাম অনুসারীরা বাদে প্রায় সকলেই চলে এসেছিলেন মাসুদের কাছে। অন্যদিকে নিজেদের অবস্থানে অটল থাকেন সাখাওয়াত ও কালাম। সবশেষে মনোনয়ন পরিবর্তিত হয়ে যখন কালামকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তখনই পাল্টে যায় সবচিত্র। ধীরে ধীরে সবাই সমর্থন দিতে শুরু করেন কালামকে। মাসুদুজ্জামান মাসুদও তাকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষকে জয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মাসুদের সাথে কাজ করা বিএনপি নেতারা নিজেদের ইগো দূরে রেখে এখন এক মঞ্চে বসতে শুরু করেছেন।
সবশেষ বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়ানের পর ৭ দিনের মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে দেখা গেছে উভয় বলয়ের অধিকাংশ নেতাকে। নিজেদের পুরোনো বিভাজন ভুলে এক মঞ্চে এসে রাজনীতি শুরু করেছেন তারা। এর পেছনে যেমন রয়েছে দলীয় নেত্রীর প্রয়ানের শোক। সেই সাথে আবুল কালামের কাছে দলীয় ম্যান্ডেট প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা জানান, দীর্ঘদিনের বিভাজনের রাজনীতি দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। আবুল কালামকে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। তার অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর আস্থা রেখেই সবাই এক হয়েছে।
আবুল কালামের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, তিনি শুরু থেকেই ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। মহানগর বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে নামাই তার প্রধান লক্ষ্য। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে এখন ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘদিনের বিভক্ত রাজনীতি পেছনে ফেলে দলটি ঐক্যের পথে হাঁটছে, আর সেই ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আবুল কালাম।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে আবুল কালামের ভূমিকা। তার একটি সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে দিতে পারে এ আসনে দলের ভবিষ্যৎ কৌশল ও নির্বাচনী শক্তির দিকনির্দেশনা।


































আপনার মতামত লিখুন :