১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপি মনোনীতদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীতে অস্বস্তিতে রয়েছে হাইকমান্ড। ইতোমধ্যে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় পরদিন ৩০ ডিসেম্বর দুইজন হেভিওয়েট নেতাকে বহিস্কার করে দল। যার ফলে নতুন মেরুকরণে সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিসাব নিকাশ নিয়ে। আগামী ২০ জানুয়ারি রাজনৈতিক সমীকরণ, দলীয় কোন্দল ও মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতাবিষয়ক জটিলতা কাটাতে ব্যস্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের।
এদিকে মিত্র দলগুলো থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে মনোনীত করেছে বিএনপি। এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হন জেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির ১নং সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং শাহ আলম। মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আছেন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর।
দলের হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনে দল ও মিত্রদের দেয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীতে অস্বস্তিতে রয়েছে। এসব প্রার্থী একদিকে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন, অন্যদিকে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছে দলের নেতা-কর্মীরা। যদিও তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয় রয়েছে। স্বতন্ত্র হিসেবে দলের যেসব নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, শিগগিরই তাদের কেন্দ্রে ডাকা সম্ভাবনা রয়েছে। দল ক্ষমতায় গেলে বিভিন্নভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেবেন। এতেও কাজ না হলে কঠোর হবে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিবে তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে।
দলের বাইরে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের দুইজন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সহ ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবু অনমনীয় বিদ্রোহীরা মাঠ ছাড়ছেন না। এর মধ্যে মিত্র দলের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতায় বেকায়দায় পড়েছেন দল ও জোটের নেতারা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করার দায়িত্ব পেয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের। প্রয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও তাদের সঙ্গে বসবেন। এ ক্ষেত্রে ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত দেখবে বিএনপি।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে কিছু আসন ছেড়ে দিয়েছি। ওই আসনগুলোতে আমাদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। এখানেও আমাদের যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমরা বসব; তাদের বোঝানোর চেষ্টা করব। এরপরও না শুনলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষে প্রার্থী থাকায় মিত্র দলের খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী। তাকে বিএনপি পদধারীরা মেনে নিলেও বঞ্চিত ও তাদের সমর্থকরা মেনে নেয়নি। বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে চারটি আসন ভাগ করেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই আসনগুলোতে বিএনপির লোকজন প্রার্থী হয়ে জোটপ্রার্থীদের সাহায্য করছেন না। এতে জোট নেতারা বলছেন, পরিস্থিতি দিনে দিনে জটিল হচ্ছে, হাইকমান্ড থেকে সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছেন। তাদের শঙ্কা, তৃণমূলের বিদ্রোহীরা জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুন্ন করতে পারেন। একাধিক আসনে যার ফল প্রভাবিত হতে পারে।





























আপনার মতামত লিখুন :