আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ আগস্ট ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় থাকবে না নৌকা প্রতীক। ফলে সারাদেশের নির্বাচনী আসন গুলোতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল ভোট যুদ্ধটা হতে যাচ্ছে। যে দুই দলের মার্কা হচ্ছে ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লা।
নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল, দাড়িপাল্লা এই ৪টি মার্কা মূলত বাংলাদেশের মানুষের কাছে সুপরিচিত। এর বাইরে যেসব মার্কা রয়েছে সেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে খুব বেশি পরিচিত নয়। ফলে আগামী নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে মূলত ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার লড়াই।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সব থেকে আলোচিত আসন হলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের আমলে এমপি ছিলেন শামীম ওসমান, সারাহ বেগম কবরী, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, কমান্ডার সিরাজ, সাত্তার সহ আরো অনেকে। কিন্তু কাকতালীয় হলেও সত্য আলোচিত এই আসনে নৌকা, ধানের শীষ, দাড়িপাল্লা ও লাঙ্গল।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। ফলে নির্বাচনী ব্যালট পেপারে থাকবে নৌকা প্রতীক।
ধানের শীষ প্রতীকের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মনির হোসেন কাশেমীকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে হবে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী দলের প্রতীক হলো খেজুর গাছ। ফলে এই আসনে নির্বাচনী ব্যালট পেপারে থাকবে না ধানের শীষ প্রতীক। ধানের শীষের পরিবর্তে ব্যালেটে থাকবে খেজুর গাছ প্রতীক।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ দলীয় জোট। এই দলটির মার্কা হচ্ছে দাড়িপাল্লা। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে শরীক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এনসিপির মার্কা হচ্ছে শাপলা কলি। ফলে এই আসনের নির্বাচনী ব্যালট পেপারে থাকবে না দাড়িপাল্লা প্রতীকও। দাড়িপাল্লার বদলে এখানে থাকবে শাপলা কলি।
অপরদিকে জাতীয় পার্টি নামকাওয়াস্তে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেও এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সালাউদ্দিন খোকা মোল্লার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আপিলে মনোনয়ন ফেরত না পেলে এই আসনে লাঙ্গল প্রতীকও না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


































আপনার মতামত লিখুন :