আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া ও সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছিলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। জাতীয় নেতৃবৃন্দের মত নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরাও নির্বাচনের পূর্বে এসব অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বিভিন্ন সময় বক্তব্য রাখেন। তবে তাতে খুব বেশি লাভ হতে দেখা যাচ্ছিলোনা। নারায়ণগঞ্জে সেনাবাহিনীর অ্যাকশন শুরু হয়েছে।
সারাদেশে সেনাবাহিনীর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান শুরু হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পৃথক দুটি অভিযানে বিপুর সংখ্যক দেশী বিদেশী অস্ত্র, গুলি মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধার সহ ১২জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানাগেছে, বৃহস্পতিবার ৯ জানুয়ারি ভোরে উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি এবং ৫ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও, আটটি ককটেল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র, চায়নিজ কুড়াল, ইলেকট্রিক শটগান, মাদক জব্দ করা হয়েছে। একইসাথে দশ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল যুবায়ের আলম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো কালাপাহাড়িয়ার খালিয়ার চরের এরশাদের ছেলে মো. জাকির (৩০), একই এলাকার কানাই মিয়ার ছেলে মো. জনি (১৯), প্রয়াত হযরত আলীর ছেলে মো. স্বপন (৪০), শামসুল হক ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল মতিন (৪৫) এবং শুকুর আলীর ছেলে রিন্টু মিয়া (৫১)।
অপরদিকে একই দিনে দিবাগত রাত সোয়া ১টায় রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কর্নগোপ এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ ভাবে জৈনক ইসমাইল ভুইয়া ও আবু সাইদের বসত বাড়িতে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তর, ৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১ টি কাটা রাইফেল, ২ রাউন্ড রাইফেরের গুলি, ২টি চাপাতি, ৩৬০ গ্রাম গাঁজা, ৫ টি মোবাইল ফোন, নগদ ২১হাজার ৯২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, কর্নগোপ এলাকার মো. ইসমাইল ভুঁইয়ার ছেলে মো. ফাহিম ভুঁইয়া (২২), আঙ্গুর মিয়ার ছেলে নূরে মোহাম্মদ (১৮), মৃত রহমান মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া(৫৫), স্বপন সোহেল এর ছেলে নাহিদ (১৮), জাবেদ আলীর ছেলে মো. জোবায়ের(২৪), মৃত মিকাইল মিস্ত্রির ছেলে এসএম তৌহিদুজ্জামান(২১),
পুলিশ জানায় গ্রেপ্তারকৃতদের রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ৬ জানুয়ারি নগরীর গলাচিপা এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে বেশকিছু দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে চিহ্নিত এক মাদক বিক্রেতাকেও। গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার একটি দোতলা ভবনে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায় বলে জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি মনির হোসেন ওরফে ফাইটার মনির (৪০) মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমানের ছেলে।
অভিযানে জব্দ করা হয় দু’টি স্টিলের তৈরি বড় ছুরি, একটি রাম দা, তিনটি দা, একটি ডেগার, একটি সামুরাই (ধারালো অস্ত্র), আটটি ছোট-বড় ছুরি, দু’টি চাপাতি, একটি করাত, লোহা কাটার ও হাতুড়ি এবং তিনটি পাইপ।
এছাড়া, গ্রেপ্তার ব্যক্তির ঘর থেকে একটি কম্পিউটারের সিপিইউ, দু’টি মনিটর, ২৪ পুরিয়া গাঁজা, গাঁজা মাপার যন্ত্রও জব্দ করেছে পুলিশ।


































আপনার মতামত লিখুন :