নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনুসারীরা ‘জনতার মেয়র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে আসছেন। এরই মধ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারী মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে নাসিকের প্রশাসক করা হয়েছে। তিনি নিজেও ২০১৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে পরাজিত হন। আইভী এখন কারাবন্দী। অনুসারীরা বলছেন কারাগার থেকে হলেও নির্বাচনে লড়তে চান আইভী। নির্বাচনের পথে রয়েছেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার। আলোচনায় আছেন সদ্য সংসদ নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলেও চমক দেখানো খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন। এছাড়াও বিএনপির অন্তত ডজনখানেক নেতাও নিজেদের আলোচনায় রেখেছেন।
জানা যায়, মেয়র পদে আলোচনায় জেলা বিএনপি আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, শিল্পপতি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল, শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ, নুরুল ইসলাম সরদার, জাসাস নেতা আনিসুল ইসলাম সানি, জাকির খান, আতাউর রহমান মুকুল ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
নারায়ণগঞ্জ শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর একাংশ অঞ্চল নিয়ে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের। এছাড়াও ৯টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিল নিয়ে ৩৬টি কাউন্সিলর নির্বাচিত করবে তিন অঞ্চলের ভোটাররা। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা ও কদম রসূল পৌরসভা নিয়ে সিটি কর্পোরেশন রূপান্তর ও প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামীলীগের সরকার আমলে প্রথম নির্বাচনে তাদের দলের দুই প্রার্থী দলীয় সমর্থন নিয়ে তুমুল যখন আলোচনা সমালোচনা তখন বিএনপি একক প্রার্থী জয়ের প্রত্যাশা ছিলো। নির্বাচনে চাঁদ রাতে বিএনপি প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বসে পড়ায় আওয়ামীলীগের নেত্রীয় ডা. আইভী মেয়র নির্বাচিত হতে সহজ হয়। ওই সময়ে আলোচিত শামীম ওসমান বিপুল ভোটে পরাজিত হন।
এর আগে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার আমলে ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম সরদারকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপ থেকে আইভী সিটি কর্পোরেশনের তিনটি নির্বাচনে বার বার নির্বাচিত হয়ে আলোচিত হয়েছেন গোটা দেশে-বিদেশে।
অন্যদিকে ২০১৬ সালে সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে ধরাশায়ী করে নির্বাচিত আইভী। ওই সময়ে বিএনপি আওয়ামীলীগ যৌথ ভোট যুদ্ধে বিপুল ভোটে জয়ী হন আইভী। বন্দর, শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জ উন্নয়নে চিত্র পরিবর্তন করায় ভোটাররা তাকে জয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠে।
২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে আইভীকে হারিয়ে সিটি কর্পোরেশন মেয়র হতে চেয়ে ছিলেন তৎকালীন জেলা বিএনপি আহবায়ক ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার। পরাজিত হওয়ায় তৈমূর আলমকে বিএনপি সকল পদ থেকে বহিস্কার করে দেয়। এতে করে বিএনপিতে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও আইভী জয়ের মাধ্যমে হ্যাট্টিক সম্বোধর করে সমর্থকরা।
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে নজর পড়েছেন। যার কারণে এখন থেকে ওয়ার্ড গুছাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপির একডজন নেতারা।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী জয়ী হতে না পারলেও বিপুল ভোটে লড়াই করেছে। সেদিকে নজর রেখে এবার মাঠে নামছেন জামায়াতে ইসলামী মহানগরীর সভাপতি আবদুর জব্বার। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েও পায়নি, এতে এনসিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন মনোনীত হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনে এখনো বিএনপি নির্বাচিত কেউ হতে পারেনি। এবার জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীকে জয়ী করে ইতিহাসন সৃষ্টি করতে চান নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে কারাগারে বসেই আবারো নির্বাচনে সক্রিয়তা হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক তিন বারের মেয়র ও আওয়ামীলীগের নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি ইতোমধ্যে তার সমর্থিত নেতা-কর্মীদের নির্বাচনে প্রস্তুতি নেয়ার আভাস দিয়েছেন।
যে নির্বাচন নিয়ে দল বহিস্কার হয়েছেন সেই নির্বাচনে আবারো মেয়র প্রার্থী হতে প্রস্তুত হচ্ছেন তৈমূর আলম খন্দকার। ২০২২ সালে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং মাধ্যমে তাকে পরাজিত করার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এবার বিএনপি ক্ষমতা থাকা অবস্থায় মেয়র প্রার্থী হয়ে আবারো সক্রিয় হওয়ার মাথাচাড়া দিতে চান তিনি।
নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনে বিএনপি মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া জেলা বিএনপি আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব নিজেরাই প্রার্থী হওয়া ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা দুইজনই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনয়ন পাবার প্রত্যাশায় ছিলেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় ছিলেন মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, শিল্পপতি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল, শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ, নুরুল ইসলাম সরদার, জাসাস নেতা আনিসুল ইসলাম সানি, জাকির খান, আতাউর রহমান মুকুল ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তারা সকলেই এবার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার দৌড়জোরে রয়েছেন। জানা গেছে, আইভী ও জব্বার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে অনেক নেতাই নির্বাচন থেকে সরে দাড়াবেন বলে জানা গেছে।


































আপনার মতামত লিখুন :