নতুন এবং পুষ্টিমান সমৃদ্ধ সবজি ব্রোকলি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন নারায়ণগঞ্জের কৃষকরা। বাজারে ব্রোকলীর যেমন চাহিদা রয়েছে তেমনি দামও পাওয়া যায় ভালো। ফুলকপির মতো দেখতে গাড় সবুজ রঙের এই সবজিতে রয়েছে বহু পুষ্টিগুণ। অল্প শ্রম ও পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্রোকলি চাষে লাভবান হওয়ার কারণে নতুন এ সবজি চাষে বেশ আগ্রহী জেলার কৃষকরা।
জানা গেছে, ক্যানসার প্রতিরোধী সবজি ব্রোকলি উন্নত বিশ্বে জনপ্রিয় হলেও দেশে এখন পর্যন্ত খুব একটা জনপ্রিয় নয়। ধীরে হলেও খাদ্য তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে সবজিটি। কৃষকদের আগ্রহ দেখে ব্রোকলির উৎপাদন সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ এরই মধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ও চরকাশিপুর এলাকায় চাষাবাদ হচ্ছে ব্রোকলির।
কৃষকরা জানান, একবার রোপনের পর অন্তত তিনবার মিলছে ফলন। যে কারণে ব্রকলি চাষাবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষকরা এটি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। অল্প সময়ে ভাল ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় ব্রকলি চাষাবাদে অপার সম্ভাবনা দেখছেন অনেক কৃষক। সম্পূর্ণ জৈব সার প্রয়োগ করে ব্রোকলি যেমন চাষ করা যায়, তেমনি এ ফসলে রোগ বালাই অত্যন্ত কম। চাষাবাদে যা খরচ হয় তার তিনগুন লাভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কৃষকরা আরো জানান, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে সফলতা পাওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলির চাষ শুরু করেছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা নিয়ে তারা নতুন সবজি ব্রোকলি চাষ শুরু করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভলো দামে বিক্রি করা যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ সদরের উপ সহকারি কৃষি অফিসার লাইলুন নাহার বলেন, ব্রোকলি বর্তমানে সম্ভাবনাময় ফসল সুপার ফুড। এর উপকারিতা অনেক, ব্রোকলি হলো অন্যান্য সবজির চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি পুষ্টিকর। আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।
সদরের সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ মামুনুর রশিদ জানান, বর্তমানে কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। ব্রোকলির এই জাতটি বারবারা জাত। এই জাত কৃষকরা এটি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তবে ইটভাটাগুলোর পরিবেশ দূষণের কারণে ফসলের উৎপাদন কমছে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রোকলি দাম বেশী পাওয়ায় চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্রোকলি চাষাবাদ বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।









































আপনার মতামত লিখুন :