News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

কালামের নির্বাচন কুক্ষিগত করার অভিযোগে ক্ষোভ টিপু


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম কালামের নির্বাচন কুক্ষিগত করার অভিযোগে ক্ষোভ টিপু

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নির্বাচন পরিচালনাকে কুক্ষিগত করে রাখার অভিযোগ তুলে মূল কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে চাইলে তাদেরকে বিরুদ্ধে দলীয় চেয়ারম্যানের অভিযোগ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

শনিবার ১১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে তিনি এমন অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

পোস্টে তিনি লিখেন, যারা যত‌ই ঘরে ও বাহিরে কুটকৌশল‌ই করে  থাকুক না কেন, আমরা আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক ও বিএনপি চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের ও দলের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সাহেবের ধানের শীষ মার্কায় আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি'র  ১৭টি ওয়ার্ড ৭টি ইউনিয়ন, ২টি থানা ও ১টি উপজেলা এবং ১১টি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি, বর্তমানেও করছি এবং নির্বাচন দিন পর্যন্ত করবোই। কিন্ত‌ু কেউ যদি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ভাইয়ের কর্মকান্ডকে সীমাবদ্ধ ও কুক্ষিগত করে রাখতে চায় এবং দলের দীর্ঘ দিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত, পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের ও মূল কমিটিকে পাশ কাটিয়ে,তাদের ব্যক্তিগত লোক দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে চায়,তার প্রতিবাদ আমরা করবোই এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যানকে আমরা অবগত‌ও অবশ্যই করবো। মূল স্রোতের ও মূল বৈধ কমিটির বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নির্যাতিত ও ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা সজাগ ও সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকবেন ও থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী আলোচিত মাসুদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

কিন্তু গত ৩ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্র থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মাসুদুজ্জামান মাসুদকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিলো। সে সময় এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও মহানগর বিএনপি নেতা আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল একত্রে ঐক্য গড়ে তুলে ছিলেন। তারা দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি তুলে নিজেদের শান্তিপূর্ন প্রতিবাদের পাশাপাশি দলীয় একত্রে দলীয় কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিলেন। সে সময় তাদের প্রত্যেকের প্রতিশ্রুতি ছিল এই ৪ জন মনোনয়ন প্রত্যার্শীর মধ্যে দল থেকে যাকেই মনোনীত করবে তাকেই মেনে নিয়ে বিজয়ী করতে মাঠে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবেন মনোনয়ন বঞ্চিত এ সকল নেতা।

মনোনয়ন বঞ্চিতদের এমন ঘোষণার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই টিপু মনোনয়ন বঞ্চিতদের ছেড়ে মাসুদুজ্জামান মাসুদের কাছে ছুটে যান। তিনি নিজেই নিজেকে মাসুদুজ্জামান মাসুদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ঘোষণা করেন। যা নিয়ে তৈরি হয় বির্তকের। এরপর থেকে মাসুদুজ্জামান তার সাথে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলতে দেখা গেছে।

পবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর মাসুদুজ্জামান মাসুদ নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনটি না করার ঘোষণা দেন।

১৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মাসুদুজ্জামান ‘নিরাপত্তার শঙ্কা ও পারিবারিক চাপের কারণ দেখিয়ে’ আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তাঁর ওই ঘোষণার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁরা কয়েক দিন ধরে তাঁকে ফেরাতে সভা-সমাবেশ করে আসছিলেন।

তবে মাসুদুজ্জামাানের আবারো নির্বাচনে ফেরার ঘোষণা আমলে নেয়নি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা। এরপর থেকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়ে ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই। ঢাকায় সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের সাথে ট্রেনিং শেষে নারায়ণগঞ্জে ফিরে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ঘোষণা দেন এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান সহ বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। কিন্তু হঠাৎই আবারো নতুন চমক নিয়ে আসনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম পুত্র আবুল কাউসার আশা। ২৪ ডিসেম্বর তিনি নিজের বাবা আবুল কালামকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার কাগজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন আলহামদুল্লিহ আল্লাহুয়াকবার।

বিএনপির বার বার এমন প্রার্থী বদলের বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত আবুল কালামেই টিকে আছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন।

সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে দলীয় মনোনীত প্রার্থী ঘোষণার পর শুধু মাত্র আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল ছাড়া অন্য কাউকে কালামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে দেখা যায়নি।

তবে ৯ জানুয়ারি বন্দরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি শাহেন শাহ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানা, বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী সহ অন্যান্যরা।

তবে ওই সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

এমন ঘটনার একদিন পর নিজের ফেসবুক পোস্টে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তবে কি আবু আল ইউসুফ খান টিপুর এমন কুক্ষিগত করে রাখার ইঙ্গিত মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের দিকে। নাকি সাখাওয়াত ছাড়াও আরো অন্য কেউ রয়েছে সেই কুক্ষিগত করার পেছনে। যাদের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিতে চাইছেন টিপু।

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group