News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

বহিষ্কার হয়েও থেমে যাননি গিয়াস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম বহিষ্কার হয়েও থেমে যাননি গিয়াস

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও রাজনীতির ময়দান ছাড়েননি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। বরং শক্ত মনোবল নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ দুটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে তার সক্রিয় উপস্থিতি ইতোমধ্যে দুই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গিয়াস উদ্দিনকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন। যেখানে যাচ্ছেন, সেখানেই পাচ্ছেন ব্যাপক সাড়া যা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই গিয়াস উদ্দিন শেষ পর্যন্ত দুই আসনেই প্রার্থী হিসেবে থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। কারণ, দলীয় মনোনয়ন না থাকলেও তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন এখনো বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ উভয় আসনেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন গিয়াস উদ্দিন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি জোটের স্বার্থে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পরপরই মাঠের বাস্তবতায় ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করে।

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট প্রার্থী স্থানীয়ভাবে তেমন পরিচিত না হওয়ায় বিএনপি ঘরানার ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তার দিক থেকে গিয়াস উদ্দিন এখানে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে এমন মূল্যায়নই শোনা যাচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও তার প্রার্থিতা ভোটের অঙ্ক পাল্টে দিয়েছে। যদিও সেখানে দলীয় প্রার্থী রয়েছে, তবু গিয়াস উদ্দিনের মাঠে নামা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুই আসনেই তার নাম ঘিরে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংগঠন পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গিয়াস উদ্দিন। সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ওয়ার্ড ও ইউনিটভিত্তিক কমিটি গঠন, তৃণমূলকে আন্দোলনমুখী করার উদ্যোগ এবং শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান তাকে স্থানীয় রাজনীতিতে আলাদা পরিচিতি দেয়।

তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, নেতাকর্মীদের চাপ ও জনসমর্থনের কারণেই তিনি পেছনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেননি। দলীয় প্রতীক না পেলেও ভোটের মাঠে থেকে জনগণের প্রত্যাশার জবাব দিতে প্রস্তুত তিনি। সেই লক্ষ্যেই দুটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।

সব মিলিয়ে সহানুভূতিশীল ভোট, তৃণমূলের আবেগ এবং শক্ত সংগঠন এই তিনের সমন্বয়ে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একজন হয়ে উঠেছেন। শেষ পর্যন্ত এই দৃঢ়তা তাকে বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে, নাকি পুরো নির্বাচনী রাজনীতিকে নতুন মোড় দেবে তা নির্ধারণ করবে ভোটের দিন। তবে আপাতত এটুকু নিশ্চিত, নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ দুই আসনের রাজনীতিতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গিয়াস উদ্দিন।

Islam's Group