News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ত্বকী হত্যার মাস্টারমাইন্ড শামীম ওসমান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম ত্বকী হত্যার মাস্টারমাইন্ড শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জে মেধাবী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকান্ডের ঘটনায় পলাতক এমপি শামীম ওসমানকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের সময়ে ত্বকী নিয়ে ওই অভিযোগ বলা হয়। ১২ আসামীর প্রত্যেকের আলাদা বর্ণনায় শামীম ওসমান সম্পর্কে ত্বকী হত্যার মাস্টারমাইন্ড উল্লেখ করা হয়েছে।

ত্বকী হত্যা নিয়ে নিহতের বাবা রফিউর রাব্বি সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন শামীম ওসমান ও তার পরিবারের লোকজনদের অভিযুক্ত করে আসছিল।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে। এরপর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন কুমুদিনী খাল থেকে তার ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় রফিউর রাব্বী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ১৮ মার্চ রাতে রাব্বি হত্যাকান্ডের ঘটনায় শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম ভূইয়া পারভেজ, জেলা ছাত্রলীগ সহ সভাপতি রাজীব দাস, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সালেহ রহমান সীমান্ত ও রিফাত বিন ওসমান এর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের কাছে অবগতি পত্র দেয়। হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর ২০১৪ সালের ৫ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাব। সেসময় এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে জানিয়েছিলো সংস্থাটি। কিন্তু এরপর আর সেই চার্জশীট আলোর মুখ দেখেনি। তবে র‍্যাব থেকে সরবরাহ করা খসড়া চার্জশীটে ১১ আসামীর নাম উঠে আসে। একই সাথে হত্যার কারণ ও বর্ণনাও দেয়া হয় তাতে।

হত্যার কারণ হিসেবে জানানো হয়, ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বী বামপন্থী একজন নেতা ও সাংস্কৃতিক জোটের সংগঠক। এছাড়া ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির একজন সংগঠক। সিটি নির্বাচনের সময় মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালান তিনি। এতে প্রতিপক্ষরা তার উপর ক্ষীপ্ত ছিল। এছারা ঢাকা নারায়ণগঞ্জে যাত্রী পরিবহনের মালিকরা অনৈতিক ভাবে বাসভাড়া বাড়ানোর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেন তিনি। এতেও ক্ষুব্ধ ছিল স্বার্থন্বেষী মহল তার উপর ক্ষুব্ধ ছিল। এসব কারনেই তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ত্বকীর উপর নজরদারী করা হয় এবং সুযোগ বুঝে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।