News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

রেলওয়ের খাল দখল করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | কালের কণ্ঠ থেকে নেওয়া প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম রেলওয়ের খাল দখল করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী গঞ্জে আলী খাল দখল করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ ঘিরে নগরজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই খালটি মারওয়ারি পট্টি থেকে তল্লা এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ হিসেবেও পরিচিত এটি।

রবিবার ১৮ জানুয়ারি বিকেলে সরেজমিনে গঞ্জে আলী খাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড মালিক সমিতি ও শ্রমিক কমিটির নামে একটি ব্যানার টানানো হয়েছে।

পাশাপাশি খালের ওপর ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের প্রস্তাবিত জায়গা উল্লেখ করে একটি সাইনবোর্ডও বসানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে ২০২০ সালের জুলাই মাসে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন শহরের পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখতে এই খালের ওপর গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। সেসময় খালটি পরিষ্কার হওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক তরিকুল সুজন কালের কণ্ঠকে জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশির ভাগ পানি নিষ্কাশন হয় গঞ্জে আলী খাল দিয়ে।

এই খাল বালু দিয়ে ভরাট করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড বানানো হলে শহরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। বিশেষ করে তল্লা ও খানপুর এলাকার পানি নামাই অসম্ভব হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মইনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, গঞ্জে আলী খাল সিটি কর্পোরেশনের জায়গা নয়। এটি রেলওয়ের সম্পত্তি।

ফলে এই জায়গা লিজ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার সিটি কর্পোরেশনের নেই।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড মালিক সমিতি ও শ্রমিক কমিটির উপদেষ্টা এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব কালের কণ্ঠকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমাকে উপদেষ্টা করা হলেও আমি কখনো সংগঠনের কোনো সভায় যাইনি। তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই।

সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আবু আল ইউসুফ খান টিপু কালের কন্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডটি সেনাবাহিনীর জায়গায় রয়েছে। সেনাবাহিনী জায়গাটি খালি করে দিতে বলেছে।

তাই বিকল্প হিসেবে খালের মধ্যে প্রস্তাবিত জায়গায় সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। যদি তারা সেখানে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড না করতে পারে তাহলে আপনারা তাদের জায়গা ঠিক করে দেন তারা কোথায় যাবে।

তিনি আরো বলেন, লিজের জন্য রেলওয়ের কাছে জন্য আবেদন করা হয়েছে, তবে কার কাছে আবেদন করা হয়েছে তা এখনই বলা যাবে না। লিজ হলে তখন বিষয়টি জানতে পারবেন।

তবে খালের জায়গা লিজ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগের উপসচিব শিমুল কুমার সাহা কালের কন্ঠকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে গঞ্জে আলী খাল এলাকায় কোনো লিজ দেওয়া হয়নি। যেহেতু এটি জলাশয়ের অন্তর্ভুক্ত, এখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। শুধুমাত্র মাছ চাষের জন্য লিজ দেওয়া যেতে পারে। বালু ভরাট করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড করার কোনো আইনগত অবকাশ নেই।

তথ্য অনুযায়ী, খানপুর গঞ্জে আলী খাল নারায়ণগঞ্জের একটি পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ জলাধার। এটি স্থানীয় পানি নিষ্কাশন এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটিকে কার্যকর রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এর আশপাশে পার্ক বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরির পরিকল্পনাও ছিল। এমন অবস্থায় খাল দখল করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড স্থাপনের উদ্যোগ নগর পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।