News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

নজর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম নজর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে

নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনে নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো বিরুদ্ধে অবস্থানে এবার সক্রিয়তা দেখিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দলের মনোনীত না হওয়ায় ও নিজের ভোট ব্যাংকের জোর খাটিয়ে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে চমক দেখাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিদের আতংকে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে নিরাপত্তা চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রার্থী ও অনুসারীরা।

জানা গেছে, ৩ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। এতে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি বিদ্রোহী মোহাম্মদ দুলাল হোসেনকে ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের তথ্য সঠিকতা না থাকায় তার প্রার্থী তা বাতিল করা হয়। ইতোমধ্যে তিনি আপিল করে মনোনয়ন ফেরত পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর (স্বতন্ত্র) আয়কর পরিশোধ না করায় তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়। তার মনোনয়ন ফেরত দেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমের হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তিনিও আপিলের মাধ্যমে ইতোমধ্যে নির্বাচনে মাঠে প্রার্থী হয়ে দাড়িয়েছেন। এই আসনে বৈধ মনোনয়ন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তাকে ইতোমধ্যে বিএনপি সকল পদ থেকে বহিস্কার করেছে দলটি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মোঃ মাকসুদ হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (পৌরকর) হোল্ডিং কর বাকি থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তিনিও আপিল করে নির্বাচনের মনোনয়ন বৈধ হয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন।

এদিকে তাদের ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন বিএনপি সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও ২০০৮ সালের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শিল্পপতি শাহ আলম।

নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনে সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চমকে দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে মনোনয়ন বাতিল হওয়া পরও বৈধ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্য সৃষ্টি করেছে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি বিদ্রোহী মোহাম্মদ দুলাল হোসেন বলেছেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো লক্ষ্যে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিলো। আপিল মাধ্যমে নির্বাচনে এসেছি, রূপগঞ্জ মানুষের ভোটে জয়ী হয়ে সেবক হতে চাই

নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। আমি মনোনয়ন তো প্রত্যাহারের জন্য জমা দেইনি। আমি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারবার নির্বাচিত হয়েছি। আমি যখনই ভোট চেয়েছি মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। জনগণ আমাকে অতীতে নির্বাচিত করেছে। তারা আমাকে বলেছে আপনি নির্বাচন করুন। আমি জনগণের ইচ্ছায় মনোনয়ন জমা দিয়েছি। আমি এবার জনগণের জন্য কিছু করতে চাই। আমি আড়াইহাজারের মানুষকে দিতে চাই। আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করবো না, আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করবোই।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেছেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জনগণই আমার শক্তি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে আমি জয়যুক্ত হবো। শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এই আসনের বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনের বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পাঁচ ধরনের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব তথ্য উল্লেখ করে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য আপিল করেছেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন। ১৭ জানুয়ারি আপিল শুনানি শেষে গিয়াসউদ্দিন আবেদন খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন বিএনপি সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও ২০০৮ সালের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শিল্পপতি শাহ আলম কেউ সরবে না বলে জানিয়েছেন। এরপরও আগামীকাল ২০ জানুয়ারি প্রত্যাহারের শেষ দিন। দুইজনই জানিয়েছেন, জনগণের সাড়া পেয়েই নির্বাচনে মাঠে নেমেছি। বিএনপি থেকে বহিস্কার হওয়ার সবদর্লীয় ভোটের আশায় রয়েছেন তারা।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন। বন্দর অঞ্চলের ২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়ায় নিজের বাসভবনে এমন আশঙ্কা করেন তিনি। মাকসুদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় আমার টিন সনদ দাখিল না করায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু আপিল শুনানির মাধ্যমে আমি পুনরায় প্রার্থিতা ফিরে পাই। এরপর থেকেই একটি মহল আমার কর্মী ও সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলে শুনছি। ইতোমধ্যে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা আমার কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়ে এবং গুলি করার হুমকি দিয়েছেন।