নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ইসদাইর, চাষাঢ়া রেল লাইন ও আশপাশ এলাকা এখন মাদকের হটস্পট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন এখানে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাদক কেনাবেচা হয়। আর এর নিয়ন্ত্রন নিয়েই ঘটছে একের পর এক হামলা ও হত্যাকান্ডের ঘটনা। সাম্প্রতিক রায়হান নামের এক বাবুর্চি হত্যাকান্ডের আগে এ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রক ছিলেন রাজ্জাক। হত্যার পর সে আত্মগোপনে রয়েছে। এখন পুরো সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রন করছে আরেক গ্রুপ যার নেতৃত্বে রয়েছে সেলিম ওরফে পেদা সেলিম, তার মেয়ের জামাতা ফজর আলী, চাঁদমারীর রুমি সহ আরো কয়েকজন।
ইসদাইর এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ আমলে চাষাঢ়া রেল লাইন হতে ইসদাইর বাজার পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন ভাঙ্গারীর দোকানে পরিচালিত হতো মাদক ব্যবসা। ওই সময়েও একাধিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। গত ৫ আগস্টে ক্ষমতার পালাবদলের পর আরো বেড়েছে পরিধি। এখান মাদক চলে যাচ্ছে ইসদাইরে ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম পর্যন্ত। গত দেড় বছর ধরে রাজ্জাক মিয়া এসব মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রন করতেন। মাদক নিয়ে শামীম নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন তিনি। একাধিক হত্যাকাণ্ড ছাড়াও গুমের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। রয়েছে বিশাল অস্ত্রধারী বাহিনী। ধরাকে সরা জ্ঞান করা এ রাজ্জাক এলাকার একচ্ছত্র মাদকের অধিপতিও বলা চলে।
পরিবারের লোকজন বলছেন, রাজ্জাক ও তার বাহিনীর সাথে রায়হানের দ্ধন্ধ ছিলো। সেই দ্বন্ধের জের ধরে আলী, ফরিদ, রাজ্জাক, শরিফ সহ ৮/১০জন ডাকবাংলার উল্টো দিকের নতুন রাস্তা মনসুর মিয়ার হোটেলের সামনে ১২ জানুয়ারী রাতে রায়হানকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ইসদাইরে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাকের ঘর তল্লাশি করে পাওয়া যায় ম্যাগজিন ২টি, গুলি ৩ রাউন্ড, খেলনা পিস্তল ১টি, সুইচ গিয়ার চাকু ১টি, স্টিলের তৈরি ছোরা ৪টি, ১টি দা এবং ১ কেজি গাঁজা। ফতুল্লার ইসদাইরে দেড় মাসের ব্যবধানে মোবারক হোসেন (৩২) ও নজরুল ওরফে বগল (২০) নামের দুই যুবক অপহরণের পর গুম হয়েছে অভিযোগ রয়েছে রাজ্জাক ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসী জানান, রাজ্জাক ছাড়াও সীমা নামের এক নারীও মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিল। এছাড়াও বিএনপির রোক পরিচয় দেওয়া সেলিম ওরফে পেদা সেলিমও মাদকে শেল্টার দিচ্ছেন।




































আপনার মতামত লিখুন :