News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

খেলোয়াড়ের পায়ে ফুটবল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম খেলোয়াড়ের পায়ে ফুটবল

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠে খেলা যখন জমে উঠছে, তখন বলটি ঠিকই এসে পড়েছে এক পুরোনো খেলোয়াড়ের পায়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনেই ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। রাজনীতির এই মাঠে তিনি নতুন নন বরং অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যিনি জানেন কখন বল ধরে রাখতে হয়, কখন পাস দিতে হয় আর কখন সরাসরি গোলমুখে শট নিতে হয়।

ফুটবল প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী মাঠে খেলার গতি বদলে গেছে। সমর্থকদের চোখে এখন তিনি সেই খেলোয়াড়, যার পায়ে বল থাকলে ম্যাচের ফল যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। প্রচার-প্রচারণায় ফুটবল হয়ে উঠেছে প্রতীক নয়, বরং বার্তা এই খেলায় তিনি খেলতে এসেছেন জিততেই।

রাজনৈতিক মহলে আলোচনাও তাই এক জায়গায় এসে থেমেছে গিয়াস উদ্দিন মাঠে নামায় পুরো ম্যাচের ছক পাল্টে যাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ এই দুই আসনেই বিএনপির জার্সিতে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এক আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং অন্য আসনে জোট প্রার্থী নির্ধারিত হলে, তিনি নিজের খেলাটা খেলতে নামেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে।

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে পরিস্থিতি যেন একেবারেই খোলা মাঠ। জোট প্রার্থী স্থানীয়ভাবে পরিচিত না হওয়ায় বিএনপি ঘরানার ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বিধা—কার পায়ে বল তুলে দেওয়া হবে? স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে এখনো সবচেয়ে শক্ত সংগঠন, পরিচিত মুখ এবং মাঠের দখল যিনি ধরে রেখেছেন, তিনি গিয়াস উদ্দিনই। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তার দিকেই ঝুঁকে পড়ছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তাকে নিয়মিত মাঠে দেখা যাচ্ছে। কর্মীসভা, উঠান বৈঠক, পথসভা সবখানেই যেন তিনি বল পায়ে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন। পুরোনো রাজনৈতিক ঘাঁটি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তার উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তিনি এই ম্যাচ হালকাভাবে নিচ্ছেন না। বরং শুরু থেকেই নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলতে চাইছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও একই চিত্র। সেখানে দলীয় প্রার্থী থাকলেও গিয়াস উদ্দিন মাঠে নামায় ভোটের খেলা একমুখী থাকেনি। এখন আর সহজ পাসে ম্যাচ শেষ করার সুযোগ নেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের। তার নামই এখানে নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে সবাইকে।

রাজনীতির মাঠে এই খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা কম নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কঠিন পরিস্থিতিতে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সে সময় সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ওয়ার্ড ও ইউনিটভিত্তিক সংগঠন সাজানো, আন্দোলনের মাঠে কর্মীদের সক্রিয় রাখা সবই ছিল দীর্ঘমেয়াদি ম্যাচের অংশ। সেই অভিজ্ঞতাই আজ তাকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।

ঘনিষ্ঠদের ভাষায়, এবার তিনি মাঠ ছাড়তে চান না। নেতাকর্মীদের চাপ, তৃণমূলের আবেগ আর নিজের ওপর আস্থাই তাকে এই খেলায় টিকিয়ে রেখেছে। দলীয় টিকিট না পেলেও, তিনি বিশ্বাস করেন খেলা শেষ হয় ভোটের দিন, প্রতীকে নয়।

সব মিলিয়ে সহানুভূতিশীল ভোট, শক্ত সংগঠন আর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কৌশল এই তিনে ভর করেই মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। শেষ বাঁশি বাজার আগে তিনি গোল করতে পারবেন কি না, নাকি তার উপস্থিতিতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যাবে সে সিদ্ধান্ত দেবে ভোটের মাঠ। তবে একথা নিশ্চিত, এই খেলায় এখন বলটা তার পায়েই।