News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

বিএনপি নেতার ইন্ধনে খাল দখল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম বিএনপি নেতার ইন্ধনে খাল দখল

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাচীন গঞ্জে আলী খাল দখল করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড বসানোর পায়তারায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাগরিকদের মধ্যে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী জলাশয় দখল ভরাট নিষিদ্ধ। অথচ কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই খালটির জায়গা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সিস্ট্যান্ডের জন্য প্রস্তাবিত উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। খালটি দখল ভরাট হলে শহরের কয়েকটি এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশিষ্টজনরা। খাল দখল ভরাটের চেষ্টা করা হলে প্রতিরোধ করা হবে বলেও হুশিয়ারী দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের পানি নিস্কাশনের অন্যতম খাল এই গঞ্জে আলী খাল যা চাষাঢ়া থেকে খানপুর হয়ে তল্লা কিল্লারপুল হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে মিশেছে। ২০২০ সালের শেষ দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন শহরের পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখতে এই খালের ওপর গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। খালটিতে সৌন্দয্যবর্ধনের পরিকল্পনাও রয়েছে নাসিকের। অথচ সেই গঞ্জে আলী খালের চাষাঢ়া অংশে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের প্রস্তাবিত জায়গা উল্লেখ করে একাধিক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড মালিক সমিতি ও শ্রমিক কমিটি। এর পাশাপাশি কমিটির উপদেষ্টাদেরও একাধিক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। খাল দখল ও ভরাট করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড স্থাপনের সাইনবোর্ড স্থাপনে জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, শহরের গঞ্জে আলী খাল যা প্রাচীন একটা খাল যেটাতে শহরের অন্যতম একটা প্রধান পানি নিস্কাশনের খাল। সেটাতে জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড মালিক সমিতি ও শ্রমিক কমিটির এর পাশাপাশি কমিটির উপদেষ্টাদেরও একাধিক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে যারা শহরে ভাল রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।ট্যাক্সি চালকদের এই দু:সাহস কিভাবে হলো। তারা কি খাল দখল করতে ওই সব রাজনীতিবিদদের নাম ব্যবহার করছে কিনা আমরা জানা নেই। জলাবদ্ধতার অভিশাপ কি সেটা ফতুল্লাবাসী জানে। যদি এই খালটি দখল হয়ে যায় তাহলে শহরের চাষাঢ়া মিশনপাড়া খানপুর এলাকাতেও স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক তরিকুল সুজন জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশির ভাগ পানি নিষ্কাশন হয় গঞ্জে আলী খাল দিয়ে। এই খাল বালু দিয়ে ভরাট করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড বানানো হলে শহরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। বিশেষ করে তল্লা ও খানপুর এলাকার পানি নামাই অসম্ভব হয়ে যাবে।এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। এলাকাবাসীদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এ ধরনের কোন তৎপরতা হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড এর সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু জানান, খালটি এর আগে আমরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। সেখানে ইতোপূর্বে গাড়ির গ্যারেজসহ নানা অবৈধ স্থাপনা ছিল। ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে খালটির দুই পাশে সৌন্দয্যবর্ধনের পরিকল্পনাও রয়েছে নাসিকের যেটার টেন্ডার খুব শীঘ্রই হবে। খালটি রেলওয়ের জায়গায় হলেও এটার পয়:নিষ্কাশন ও সমস্ত কিছু মেইনটেইন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। খাল দখল ভরাট করে ট্যাক্সিস্ট্যান্ড হলে যেমন আমাদের দলের বদনাম হবে তেমনি শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা হবে। আমরা কোন অবস্থাতেই খালে অবৈধভাবে কোন কিছু নির্মাণ করতে দিবনা। খাল দখল চেষ্টা হলে ওয়ার্ডের সমস্ত জনগণ একজোট হয়ে প্রতিবাদে নামবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. নুর কুতুবুল আলম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নেয়ার জন্য ভূসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে আইনে রয়েছে জলাশয় ভরাট করে কোন কিছু করা যাবেনা ।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মইনুল ইসলাম জানান, গঞ্জে আলী খাল সিটি কর্পোরেশনের জায়গা নয়। এটি রেলওয়ের সম্পত্তি। তবে খালের জায়গা লিজ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড মালিক সমিতি ও শ্রমিক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বর্তমানে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডটি সেনাবাহিনীর জায়গায় রয়েছে। সেনাবাহিনী জায়গাটি খালি করে দিতে বলেছে। তাই বিকল্প হিসেবে খালের মধ্যে প্রস্তাবিত জায়গায় সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। যদি তারা সেখানে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড না করতে পারে তাহলে আপনারা তাদের জায়গা ঠিক করে দেন তারা কোথায় যাবে।

তিনি আরো বলেন, লিজের জন্য রেলওয়ের কাছে জন্য আবেদন করা হয়েছে, তবে কার কাছে আবেদন করা হয়েছে তা এখনই বলা যাবে না। লিজ হলে তখন বিষয়টি জানতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগের উপসচিব বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে গঞ্জে আলী খাল এলাকায় কোনো লিজ দেওয়া হয়নি। যেহেতু এটি জলাশয়ের অন্তর্ভুক্ত, এখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। শুধুমাত্র মাছ চাষের জন্য লিজ দেওয়া যেতে পারে। বালু ভরাট করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড করার কোনো আইনগত অবকাশ নেই।