News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

তিন হেভিওয়েটের চাপে মান্নান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম তিন হেভিওয়েটের চাপে মান্নান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের রাজনৈতিক মাঠ। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর শুরুতে বেশ আত্মবিশ্বাসী থাকলেও এখন তিন হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীর চাপে পড়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। একসময় যাকে এই আসনের ফ্রন্ট রানার হিসেবেই দেখা হচ্ছিল, সময়ের ব্যবধানে সেই মান্নানকেই এখন প্রতিদিন ঘাম ঝরাতে হচ্ছে ভোটের হিসাব মেলাতে।

দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের প্রত্যন্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন মান্নান। উঠান বৈঠক, কর্মী সভা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সবকিছুতেই সক্রিয় থাকলেও মাঠের বাস্তবতা তার জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। প্রথম ধাক্কা আসে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে ঘিরে। শুরু থেকেই গিয়াস উদ্দিনের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়া মান্নানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় সেই চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এর মধ্যেই নতুন করে নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দেয় আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা। এতে করে বিএনপির সম্ভাব্য ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না দিতেই নির্বাচনী মাঠে চমক হয়ে আসে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার প্রত্যাবর্তন। সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েও ফের নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত এবং জোরেশোরে প্রচার শুরু করায় পুরো আসনজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে।

ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার পুনরাগমনকে স্থানীয় রাজনীতিতে মোটেও হালকাভাবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ দুই এলাকাতেই তার দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে। পাশাপাশি একটি সুসংগঠিত ভোটব্যাংক ও মাঠপর্যায়ের কর্মী কাঠামো থাকায় তার কামব্যাক জামায়াতকে আবারও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে। ভোটারদের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যেও স্পষ্ট অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে আজহারুল ইসলাম মান্নান দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা ও দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার কারণে তিনি বিএনপির একটি বড় ভোটব্যাংকের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তবে শুরুর দিকের ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। সাম্প্রতিক সময়ে তার কিছু বক্তব্য এবং অনুসারীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়েছে জনপ্রিয়তার গ্রাফে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এখন এক জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ। একদিকে বিএনপির ভেতরের বিভাজন, অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর শক্ত অবস্থান এই দুইয়ের চাপে মান্নানের পথ যে মোটেও সহজ নয়, তা স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কার কৌশল কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।