লড়াই হবার কথা ছিলো ধানের শীষ বনাম দাঁড়িপাল্লা। তা বদলে লড়াই হচ্ছে খেজুর গাছ বনাম শাপলা কলি। দীর্ঘদিন ধরে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে থাকা শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকা এখন নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা এই সমস্যা থেকে উত্তরণে এই দুই জোটের একজন প্রার্থীকে বেছে নিবেন এমনটাই ছিলো ভাবনা।
কিন্তু নির্বাচনের মাঠে নেমে বিতর্কে জড়িয়ে ঘুরে গেছে চিত্র। বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী নির্বাচনের শুরু থেকে বিতর্কিত কর্মকান্ড করতে করতে এলাকার মানুষের কাছে হাস্যরস ও বিরক্তির কারণ হিসেবে হাজির হয়েছেন। তার পাশেপাশে এত বেশী বিতর্কিত লোকদের আনাগোনা ও তাদের কর্মকান্ড চলছে যা ভোটারদেরকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করছে। হুমকি ধামকির ঘটনায় উল্টো হিতে বিপরীত ফলাফল আসতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন অঞ্চল জুড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লার রেল স্টেশন ও পিলকুনি এলাকায় এক বিএনপি নেতা মনির কাসেমীর পক্ষে কাজ করছেন। তিনি এলাকার সাধারণ মানুষকে বার্তা দিয়েছেন যে, খেজুর গাছের বাইরে ভোট পড়লে ১২ তারিখের পর দেখে নেয়া হবে। কারা কারা খেজুর গাছের বাইরে ভোট দিবে তাদের মার্ক করে রাখবেন তিনি। এছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিভিন্নভাবে ঢোকানো হচ্ছে খেজুর গাছ প্রতীকের প্রচার প্রচারণা ও ক্যাম্পে। যা দেখে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।
একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অস্ত্র হাতে শিক্ষার্থীদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিলো। তাদের এখন দেখা যাচ্ছে খেজুর গাছ প্রতীকের হয়ে কাজ করতে। তারা এখন বিএনপির পরিচয় ধারণ করে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এছাড়া ৫ আগস্টের পরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তারে যাদের দেখা গেছে। তারা এখন স্বদর্পে খেজুর গাছের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। অধিক ক্ষমতা প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র সবার চোখের সামনে। এসব কারনেই তাদের থেকে নীরবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ভোটাররা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমেই ভোটের রেইস থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ মার্কা। পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট, মাইকিং চললেও মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সেই সাথে প্রতিযোগীতায় উঠে এসেছে হরিণ। বর্তমানে ভোটের মাঠে আলোচনায় আছে হরিণ ও শাপলা কলি মার্কা। দুই প্রার্থীর এক প্রার্থী নির্বাচনে বাজিমাত করতে পারেন এমন গুঞ্জন চলছে সর্বত্র।
কারণ হিসেবে বোদ্ধামহল বলছেন, কাসেমি বিতর্কিত। কিন্তু আল আমিন উঠে এসেছেন প্রতিবাদী হয়ে। সে শুরু থেকেই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। কাউকে ভয় পাননি। বয়সে তরুণ হলেও সাহস দেখিয়েছে এবং প্রতিবাদী ভাষা জারি রেখেছেন। যে কারণে মানুষ তার উপর আস্থা রাখতে শুরু করেছে। যেখানে কাসেমীর আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায়নি। সেখানে আল আমিন কাউকে ভয় না পেয়ে বক্তব্য জারি রেখেছেন। যেই কারনে মানুষের বড় একটি অংশ তার পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, নির্বাচনে নেমে নিজেকে বিতর্কিত করার অন্যতম নজির স্থাপন করেছেন মনির হোসেন কাসেমী। মানুষ তার কাজ কর্মে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। নিজের ফিল্ড এমনভাবেই হারিয়েছেন যে আগামীতেও তার রাজনৈতিক দুয়ার বন্ধ হয়ে গেছে। সুসময়ের মাছি হয়েও বিএনপি জোটের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষতক পরিচিতি পেলেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনকারী হিসেবে।
































আপনার মতামত লিখুন :