News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২

আলীর বয়কট গিয়াসের অশিক্ষিতে উত্তেজনা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম আলীর বয়কট গিয়াসের অশিক্ষিতে উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জে দুটি আসনে বিএনপির দুই সাবেক এমপিদের জ্বালাময়ী বক্তব্যে নির্বাচন ঘিরে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আর মাত্র ১১ দিন প্রচারণার শেষ সময়ে আগে নির্বাচনের মাঠ সরগরম করেছেন প্রার্থীরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় ছিলেন ১৯৯৬ সালের বিএনপির এমপি মোহাম্মদ আলী ও ২০০১ সালের বিএনপির আরেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। বরং তাদের মধ্যে কাউকে না দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের মুফতি মনির হোসেন কাসেমী মনোনয়ন দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতোমধ্যে গত সপ্তাহে রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে জনসভায় তাদেরকে পরিচয় করে দিয়েছেন তিনি।

এর আগে পরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহারকারী নেতাদের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলম। তিনজনই জেলা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কোন সুরাহার না হলে নির্বাচন বয়কটের ইঙ্গিত দেন। জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মোহাম্মদ আলী ‘পদত্যাগ’ করার হুমকিতে ইতোমধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তার এমন সাহসী বক্তব্যে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা পাচ্ছে অন্যান্য প্রার্থীরা।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে লড়ছেন বিএনপির সাবেক এমপি (সদ্য বহিস্কৃত) মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। ২৯ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জে নেমেই প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে বলেন বিবেকবানরা ‘অশিক্ষিত’ ব্যক্তিকে সংসদে পাঠাবে না। এমন বক্তব্যে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে গিয়াসউদ্দিনের প্রশংসিত হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যেটা প্রয়োজন, সেটা আপনাদের (প্রশাসন) করতে হবে। জোর করে বাড়ি থেকে ডেকে এনে যদি কাউকে কিছু বলা হয়, তাহলে কি সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে? আমার মনে হয় না। আপনারা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে আমরা একযোগে পদত্যাগ করে চলে যাবো। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল করবো—এলাকা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে ভরে গেছে। বিজয়ী হলে শিল্প ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা হবে। আমরা সবাই সুষ্ঠ নির্বাচন চাই। আপনারা যেমন চেষ্টা করছেন, আমরাও করছি। কিন্তু কিছু লোক বাড়ি থেকে ডেকে এনে মানুষকে ধমকাচ্ছে। ভোট দিতে গিয়ে যদি কেউ বাধার মুখে পড়ে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে আপনারা কী করবেন, সেটা আপনারাই ভালো বোঝেন। প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।

২৭ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কনফারেন্স কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন প্রথম প্রচারণায় সিদ্ধিরগঞ্জে জ্বালাময়ী বক্তব্যে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার দলের প্রতীককে ভোট দিবো-খুব ভালো খুব সুন্দর। সাত ব্যক্তি তার দলের নিবেদিত থাকা পরে অশিক্ষিত ব্যক্তিকে-মানুষ বলে। মানুষ বলে আমি বলি না- সেখানে নাকি গিভেন টেক হয়েছে তার জন্য দেয়া হয়েছে, আমি বলি না। সংসদে যায় কেনো একজন পার্লামেন্ট মেম্বার, তার কাজ কি আইন প্রণয়ন করবে। কে করবে শিক্ষিত মানুষ না টিপ সই করা মানুষ। সংসদে মূর্খদের দিয়ে চলবে-অসম্ভব। সেখানে শিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে দেশের কল্যাণ কাজ করতে পারে। ওই পার্লামেন্টে বাজেট প্রণয়ন করতে পারবে-শিক্ষিত মানুষ। আজকে অনেকে বলেন প্রতীককে ভোট দিবেন। প্রতীক ধুয়ে কি পানি খাবেন, প্রতীক কি কোন কাজ করতে পারে হাঁটাচলা করতে পারে, কথা বলতে পারে সংসদে গিয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রত্যেক বিবেকমান বলে প্রতীক নয় ব্যক্তি বড়। প্রতীক নিয়ে অনেক টাউট বাটপার ঋণখেলাপী খারাপ মানুষ। বাংলাদেশ মানুষ এখন অনেক সচেতন-বোকা না। আমি বলি না আমি ভালো মানুষ-আরো অনেক ভালো মানুষ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু মানুষ আছে, যারা এই এলাকায় বসবাস করে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও ব্যক্তিগত স্বার্থে এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করে। তারা টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে আপনাদের ভোট বিক্রি করে দেয়। এরা অকৃতজ্ঞ। এদের মিষ্টি কথায় ভুলে গেলে চলবে না। এদের চিহ্নিত করে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।