নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। যারা ইতোমধ্যে বিএনপি প্রার্থীদের ‘অশিক্ষিত’ ও ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ভোটারদের কাছে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তিনটি আসনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ও অনুসারীদের বহিস্কার করেছেন দলের হাইকমান্ড। এরপরও বিএনপির প্রার্থী বিরুদ্ধে মাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
এদিকে চলতি সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ের বার্তা দিচ্ছে হাইকমান্ড। প্রয়োজনে প্রার্থীদের সাথে জেলা মহানগর নেতাদের সমন্বয় করার দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা।
নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বদলে বিদ্রোহীদের পাশে থাকার অভিযোগে থানা ও ইউনিয়নের বিএনপি যুবদলের শীর্ষ নেতাদের বহিস্কার করেছে দল। যার কারণে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ে আরো সহজ হলেও মাঠ পর্যায়ে ভোট ব্যাংকে ধ্বস হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। একই সাথে এখনো মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মাঠে না থাকায় তাদের সর্তক করার বার্তা আসছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার, কঠোর বার্তা আর বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতা ও আলোচনার পরও প্রায় ৩টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে এখন বিএনপি পরিচয়ের ৬ জন ‘বিদ্রোহী’ নেতার মুখোমুখি হতে হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিএনপির রাজনীতি করা এসব আগ্রহী প্রার্থী দলের টিকেট না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। দলের প্রতীক না পেয়ে দলের কঠোর অবস্থানের পরও ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন স্বতন্ত্র হিসেবে।
দলীয় ও শরিক জোটের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। তার বিরোধীতায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন সদ্য বহিস্কৃত সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও শাহআলম।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে মাঠে বিদ্রোহী হয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। একই রকম নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর। বিদ্রোহী তিনজনই বিএনপি থেকে ইতোমধ্যে বহিস্কার করেছে দলের হাইকমান্ড। এদের পাশাপাশি নির্বাচন মাঠে তাদের সহযোগিতা করার অভিযোগকারীরাও বহিষ্কার হয়েছেন।
যার কারণে নির্বাচনের এক সপ্তাহে আগেই পাচঁটি আসনে বিএনপি প্রার্র্থীদের জয়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর নেতা সহ পদবিহীন নেতাদের কাছে বার্তা আসছে এমন জানা গেছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি শীর্ষ নেতাদের কাছে প্রার্থী জয়ের বাধা বিভিন্ন পয়েন্ট জেনেছেন লিখিত আকারে। সে বিষয়গুলো পর্যালোচনা মাধ্যমে প্রার্থী সাথে আলাপচারিতা মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনেই জয় চায় বিএনপি।


































আপনার মতামত লিখুন :